অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে মতলব উত্তরের ১ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত

আতাউর রহমান সরকার :

ধার দেনা কইরে ও সুদি টাহা আইনে দের বিঘে জমিতে টমেটো চাষ করছিলাম। জমির লক্ষণ ভালো হইছেলো। ভাবলাম ধার দিনা শোধ কইরে এটটু শান্তিতে থাকপো। কিন্তু তা আর হলোনা। এর মধ্যিই বৃষ্টি নামলো। কয়দিনে ও থামলো না। এই বৃষ্টির জন্য এত টাহার ক্ষয়ক্ষতি হয়ে গেল। এমনই আক্ষেপ করে কথাগুলো বলছিলেন চাঁদপুরের মতলব উত্তরের ওটারচর গ্রামের কৃষক শাহ আলম সিকদার। শুধু এই কৃষকই না, অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে উপজেলার ১ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে মতলব উত্তর উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়নের অধিকাংশ ঘেরের পাড়ে ও উঁচু জমিতে চাষাবাদ করা আগাম সবজির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

অতিবৃষ্টির কারণে প্রায় ১০০ হেক্টর জমির সবজি পুরোটাই নষ্ট হয়ে গেছে। এতে কৃষকদের কোটি টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সরেজমিনে ছেংগারচর পৌরসভা র বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে দেখা যায়, শাকসবজি চাষ করা জমিতে পানি জমে আছে। উচ্চমূল্যের সবজি যেমন শসা, লাউ, করোলা, পেপে, ঢেড়শ, ঝিঙ্গা, টমেটোর চারা, বেগুন, চিচিঙ্গা, মিষ্টি কুমড়া, চাল কুমড়া, পানি কচু, গিমা কলমি, ধনিয়া পাতা ও অন্যান্য সবজির ক্ষেত পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পুরোটাই নষ্ট হয়ে গেছে। এতে কৃষকরা পড়েছে বিপাকে। ওটারচর গ্রামের আধুনিক শিক্ষিত তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা সরকারি তোলারাম কলেজের মাস্টার্সের ছাত্র মোঃ আতাউর রহমান সরকার জানান, তিনি ৬ বিঘা জমিতে ঢেঁড়স শসা, ডাটা, লাল শাক মূলা, লাউ, ফুলকপি, ধনিয়া পাতা, টমেটো করেছিলেন। কিন্তু অতিবৃষ্টির কারণে পুরো সবজি নষ্ট হয়ে যায়। এতে তার প্রায় ৪ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ওটারচর গ্রামের কৃষক আলামিন সরকার জানান, তিনি ৫ বিঘা জমিতে মুলা ফুলকপি লাল শাক চাষ করেছিল। কিন্তু অতিবৃষ্টির কারণে তার প্রায় ২ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

এছাড়া ওটারচর গ্রামের কৃষক মোঃ কবির হোসেন সিকদার মুলা ঢেঁড়স বাঁধাকপি ধনিয়া পাতা চাষ করেছিলেন প্রায় দেড় লক্ষ টাকা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।কৃষক মোঃ মরতুজ আলী দেওয়ান, তাইজ উদ্দিন দেওয়ান, মোহাম্মদ মালেক ভূঁইয়া , মোঃ মোকসেদ আলী দেওয়ান, মোঃ শাহ আলম সরকার, সাহেব আলী সরকার, জসিম উদ্দিন সরকার, ফয়েজ মিয়া, নজরুল ইসলাম মিয়াজী মোঃ মজিবুর রহমান প্রদান, বজলুর রহমান প্রধান সহ আরো অনেকে প্রায় ২০ লক্ষ টাকা সমমূল্যের সবজির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জোরখালী গ্রামের কৃষক ফারুক হোসেন, আবুল কালাম, খলিল,আদুর বিটি গ্রামের কৃষক মোঃ সেকুল, শুফল, ভূঁইয়া কান্দি গ্রামের টমেটো করলা ও লাউ চাষী মোঃ মুকুল হোসেন সহ আরো অন্যান্য সবজি চাষি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ঠাকুরচর গ্রামের তকদিল হোসেন , গজরা ইউনিয়নের টমেটো চাষী রঞ্জন, দুর্গাপুর ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর গ্রামের একাধিক কৃষকসহ প্রায় শতাধিক কৃষক ও বাগানবাড়ি ইউনিয়নের একাধিক কৃষকসহ প্রায় শতাধিক কৃষক, জহিরাবাদ ইউনিয়নের শতাধিক কৃষক কলাকান্দা ইউনিয়নের কৃষক শহিদুল ইসলাম সহ শতাধিক কৃষক সবজি চাষে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সম্মুখীন হয়েছে। ইসলামাবাদ ইউনিয়নের শতাধিক কৃষক। এসকল কৃষকরা জানান জানান, এই অতিবৃষ্টির কারণে তারা কোন শাক বা সবজি ফসল ঘরে উঠাতে পারেনি।

এতে তারা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। তাই প্রণোদনার মাধ্যমে তারা সার বীজ ও নগদ টাকা প্রদান করার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন। তবে মতলব উত্তরে শাকসবজির ফলন ভাল হয়েছিল। কিন্তু অতিবৃষ্টির কারণে কৃষকেরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এতে সবজির দাম দ্রুত অসহনীয় পর্যায়ে চলে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের প্রণোদনার মাধ্যমে সার বীজ ও কিছু নগদ টাকা দিলে তারা ক্ষয় ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নিতে পারবেন।