মতলবের কৃতি সন্তান স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের নওশেরেরর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন

মতলব উত্তর :  চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলার বদরপুরের গ্রামের কৃতি সন্তান ও স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের স্ট্রাইকার মুক্তিযোদ্ধা নওশেরুজ্জামানের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন নিজ গ্রামেই সম্পন্ন হয়েছে।

সোমবার রাতে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭২ বছর বয়সে পৃথিবী ছেড়ে পরপারে পাড়ি জমান তিনি(ইন্নানিল্লাহ……রাজেউন)

মঙ্গলবার বাদ আসর মতলব উত্তর উপজেলার সাদুল্যাপুর ইউনিয়নের বদরপুর শিকদারবাড়ী সংলগ্ন  মাঠে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মুক্তিযোদ্ধা ও কৃতি এই ফুটবলারকে পিতা-মাতার পাশে সমাহিত করা হয়।

রাস্ট্রীয় হার্ড অব অনার এ প্রশাসনের পক্ষে ছিলেন চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক)আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান, মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্নেহাশিস দাশ ও মতলব উত্তর থানার ওসি(তদন্ত)শাজাহান কামাল।

জানাযায় উপস্থিত ছিলেন কালের কন্ঠের ক্রীড়া সম্পাদক এটিএম সাইদুজ্জামান, ব্যবসায়ী এএফএম বদিউজ্জামান খসরু, ইঞ্জিনিয়ার খালেদুজ্জামান, আমিন শিকদার, মামুন শিকদার, ব্যাংকার তাহমিদুজ্জামান, ব্যাংকার মাহবুব আলম, গাজী মুক্তার হোসেন, আব্দুস সোবান সুভাসহ গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ।

এরপূর্বে সকাল ১০টায় বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে তার প্রথম জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবার পর, বাবার চাকরীর সুবাদে কৈশোর কাটানো মুন্সিগঞ্জে দ্বিতীয় জানাযার পর বিকেলে জন্মস্থান চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনলে তৃতীয় জানাযা শেষে নওশেরুজ্জামানকে ষাটনলেই পারিবারিক গোরস্থানে তাঁকে সমাহিত করা হবে।

করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর নওশেরুজ্জামানকে শুরুতে মুগধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে তাকে নেওয়া হয় গ্রিন লাইফ হাসপাতালে। পরে লাইফ সাপোর্টে রাখার প্রয়োজনে তাকে নেওয়া হয়েছিল ইবনে সিনা হাসপাতালে। গুণী এই ফুটবলারের চিকিৎসার সমস্ত ব্যয়ভার বহণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নীল দলের হয়ে ফুটবল খেলা শুরু করেন নওশের। মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে ক্রিকেটও খেলতেন তিনি। সাবেক ক্রিকেটার রকিবুল হাসানের সঙ্গে ইনিংস ওপেনও করেছেন। সব্যসাচী এই ক্রীড়াবিদ মোহামেডানের হয়ে এক মৌসুমে সবচেয়ে বেশি গোল করারও রেকর্ড গড়েছিলেন।

তবে সব ছাপিয়ে ১৯৭১ সালে ২১ বছর বয়েসে স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলে যোগ দেওয়ার জন্য বিখ্যাত হয়ে আছেন তিনি। ফুটবল খেলে বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামে সক্রিয়ভাবে অবদান রেখেছেন নওশের।
উল্লেখ্য, মুক্তিযোদ্ধা নওশেরুজ্জামানের ৪ ভাই-ই জাতীয় পর্যায়ে ফুটবল খেলেছেন।

উল্লেখ্য, স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের অন্যতম সদস্য নওশের ছিলেন নামি স্ট্রাইকার। স্বাধীনতার আগে খেলেছেন রেলওয়ে, ওয়ারী, ফায়ার সার্ভিস ও ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাবে। স্বাধীন বাংলা দলের হয়ে ভারতের বিভিন্ন জায়গায় খেলেছেন তিনি। স্বাধীন বাংলাদেশে ওয়াপদাতে ১৯৭২ থেকে ১৯৭৪, মোহামেডানে ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৭ ও ওয়ান্ডারার্সে ১৯৭৮ থেকে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত খেলেছেন। আর জাতীয় দলে ১৯৭৩ থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত খেলেছেন সুনামের সঙ্গে। ফুটবল ছাড়াও ক্রিকেটে তার দাপট কম ছিল না। সেখানেও সমান পারদর্শী ছিলেন। মোহামেডানের মতো দলে নিয়মিত খেলে গেছেন সাবেক এই ওপেনার। এছাড়া ভিক্টোরিয়াতে তিন ও কলাবাগানে খেলেছেন পাঁচ বছর। খেলাধুলায় বিশেষ অবদানের জন্য তিনি ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ব্লু’ পদক অর্জন করেন।