টাকা ছাড়া সেলাই হয় না উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে

বগুড়ার শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে টাকা ছাড়া সেলাই হয় না বলে অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালে সামান্য কাঁটা, ফাটা রোগী গেলেই তাদের আত্মীয়স্বজনের নিকট থেকে জরুরী বিভাগের ওয়ার্ড বয়েরা জোরপুর্বক টাকা আদায় করেন।

শেরপুর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের ভীমজানি গ্রামের দরিদ্র মাছ বিক্রেতা রণজিত জানান, শনিবার সকালে আমার সাত বছরের ছেলে সনজিত খেলতে গিয়ে পড়ে যায়। এতে তার ডান হাতে জখম হলে পল্লী চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাই। তিনি সেলাইয়ের জন্য শেরপুর উপজেলা হাসপাতালে যাবার পরামর্শ দেন। হাসপাতালে গেলে জরুরী বিভাগের ওয়ার্ডবয় বিক্রম ও মতিন সেলাইয়ের জন্য ৭শ টাকা দাবি করেন। সেলাই ব্যান্ডেজ শেষে আমি নিরুপায় হয়ে ৫শ টাকা দিতে বাধ্য হই। অভিযোগ পাবার পর হাসপাতালে ওয়ার্ডবয় বিক্রম ও মতিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা টাকা নেয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন।

এ ব্যাপারে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. সাজিদ হাসান লিংকন জানান, জরুরী বিভাগে রোগীদের সেবা দিতে টাকা নেয়ার কোন নিয়ম নাই। কিন্তু কিছু কিছু ওয়ার্ডবয় রোগীদের ভুল বুঝিয়ে টাকা নেয়। তারা হাসপাতালের ষ্টাফ না হলেও আমরা কিছুতেই তাদের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি না।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা.মোকছেদা খাতুন জানান, সাধারণ রোগীদের নিকট থেকে এভাবে টাকা নেয়া অন্যায়। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।