তৃণমূলের খোঁজখবর ‘ভার্চুয়ালি’ সারছেন নেতারা

ঈদ উৎসব ঘিরে কর্মীদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাতের যে রাজনৈতিক সংস্কৃতির চল নেতাদের মধ্যে ছিলো, মহামারীকালের দ্বিতীয় ঈদেও তা থেকে দূরে থাকতে হচ্ছে হেভিওয়েট থেকে স্থানীয় পর্যায়ের সব নেতাদের।

সংক্রামক করোনাভাইরাসের কারণে সামাজিক দূরত্ব মানার বাধ্যবাধকতা থাকায় তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাতের বড় উপলক্ষ কোরবানির ঈদেও অধিকাংশ রাজনীতিককে থাকতে হয়েছে ঢাকায়।

মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে রোজার ঈদের মতো কোরবানির ঈদের জামাতও ঈদগাহে হয়নি। সামাজিক দূরত্বের ফলে ঈদের দিনের ঘোরাফেরা কিংবা আনুষ্ঠানিকতায়ও পড়েছে ভাটা। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ঈদের আনুষ্ঠানিকতা থেকে নিজেদের অনেকটাই গুটিয়ে নিয়েছেন রাজনীতিবিদরাও।

দেশের বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্যদের ঈদের দিনের স্বাভাবিক রুটিনে বিস্তর পরিবর্তন এসেছে। সকালে ঈদের নামাজ শেষে নেতাকর্মীদের কেউ কেউ দেখা করার চেষ্টা করলেও সাক্ষাত থেকে বিরত থেকেছেন অনেক রাজনীতিক। আগে থেকেই জমায়েত না করতে নির্দেশনাও দিয়েছেন অনেক নেতা।

দিনাজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ঈদে তার নির্বাচনী এলাকায় যাননি। সরকারের নৌপরিবহণ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘আমি ঢাকার সরকারি বাসভবনে আছি, এলাকায় যাইনি। কারণ এলাকায় গেলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ওঠা কঠিন। তাই অ্যাভয়েড করেছি। ঈদের দিন কাউকে তো আসলে এড়ানো য়ায় না। তাই বাধ্য হয়ে লোকচক্ষুর আড়ালে থাকতে হচ্ছে। কিছু করার নাই।’

নিজ নির্বাচনী এলাকায় না যাওয়াকে ‘আত্মত্যাগ’ উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘পবিত্র হজ্ব, সেই হজ্বেই সারা পৃথিবীর মুসলমানরা বিশাল আত্মত্যাগ করল এবার। সে জায়গায় আমরা এতটুকু দূরে থাকা হয়ত অল্প কিছু আত্মত্যাগ।’

খালিদ বলেন, ‘১৬ কোটি মানুষ কষ্টের মধ্যে আছে। নেতাকর্মীরা তো বিশেষ কিছু না। মানুষের সঙ্গে দেখা সাক্ষাতের চেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে কিছু পারিবারিক, কিছু ধর্মীয় আচার থাকে, সেগুলো দূর থেকে করতে হচ্ছে। কিছু করার নাই। এটা এখন বাস্তবতা।’

এদিকে ঈদের দিন শুভেচ্ছা ও যোগাযোগ টেলিফোনে সেরে নিচ্ছেন ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য আকবর হোসেন পাঠান (ফারুক)। ঢাকা টাইমসের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘এটা এখন প্রাকটিসে চলে আসছে। কম লোক আসবে। সবার সঙ্গে তো আর যোগাযোগ করা সম্ভব হবে না। বাসা খুলে দিলাম ১০ জন, ৫০ জন, ১০০ জন, দেড়শ জন আমি এটা অ্যালাও করি না। বিধি যা আছে সেগুলো মানতে হয়। সবাইকে বলে থাকি─ ভাই, মেনে, তারপরে চলো। আসতেই হবে, দেখা করতে হবে সেটা বাধ্যতামূলক না। ফোনে কথা বলে নেব।’

এই সাংসদ বলেন, ‘বাবা, দাদারা যেভাবে কুরবানি দিতেন সেভাবে গ্রামের গরিবদের জন্য কোরবানির পশু কিনে পাঠিয়ে দিয়েছি। আমার সেভাবে যাওয়া হয় না। এবারও যাওয়া হচ্ছে না।’

‘গ্রামে যারা গরিব, কোরবানি দিতে পারেন না, তাদের বাড়িতে মাংসটা পৌঁছে দেয়া হয়। সেটা চিরকালই করেছি। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।’

ঈদের এক সপ্তাহ আগে থেকেই ঢাকার দলীয় নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্খীদের সঙ্গে টেলিফোনে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন জানিয়ে ফারুক বলেন, ‘আমার দলের মানুষ, শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে যোগাযোগ অহরহ হচ্ছে। ঈদের সাতদিন আগে থেকে ঈদের শুভেচ্ছা দেয়া-নেয়া হচ্ছে।’

এদিকে বিএনপি নেতারাও অনেকে ঢাকাতেই ঈদ করেছেন। করোনার কারণে এলাকায় যাওয়া হয়নি। তবে, নেতাকর্মীদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি যোগাযোগ রেখেছেন, ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় হয়েছে।

বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শামসুদ্দিন দিদার জানান, ‘বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা এবার ঢাকাতেই ঈদ উদযাপন করছেন। দলের ভাইস চেয়ারম্যানদের মধ্যে আব্দুল্লাহ আল নোমান, মেজর অব. হাফিজ উদ্দীন আহমেদ বীর বিক্রম, বরকত উল্লাহ বুলু, মো শাজাহান, শামসুজ্জামান দুদু, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বীর উত্তম ঢাকায় ঈদ করছেন। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীও ঢাকায় ঈদ করছেন।