অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিনের ক্লিনিকাল ট্রায়াল হবে ভারতে

প্রথম পর্যায়ে পুরোপুরি সফল হওয়ার পর করোনাভাইরাস ভ্যাকসনিরে চূড়ান্ত পর্যায়ের ক্লিনিকাল ট্রায়াল শুরু করছে অক্সফোর্ড। এই পরীক্ষা হবে ভারতে। এর ফলে একই সঙ্গে করোনা ভাইরাসের দুইটি ভ্যাকসিনের ট্রায়াল শুরু হতে চলেছে ভারতে।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় করোনার যে ভ্যাকসিন আবিষ্কার করেছে, তার দ্বিতীয় পর্যায়ের ক্লিনিকাল ট্রায়াল হবে ভারতে। একই সঙ্গে দেশের বিজ্ঞানীরা যে ভ্যাকসিন তৈরি করেছেন, তারও ট্রায়াল শুরু হবে কিছু দিনের মধ্যেই।

সোমবার রাতে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় কোভিড ভ্যাকসিনের বিষয়ে বড়সড় সাফল্য দাবি করে। তাদের বক্তব্য, তাদের তৈরি ভ্যাকসিন এজেডডি ১২২২ ক্লিনিকাল ট্রায়ালের প্রথম পর্যায়ে সফল ভাবে উত্তীর্ণ হয়েছে। গত এপ্রিল মাসে প্রথম এই ভ্যাকসিনের ক্লিনিকাল ট্রায়াল শুরু হয়। চীন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কিছু দেশে এক হাজার ৭৭ জনের উপর এই ভ্যাকসিন পরীক্ষামূলক ভাবে ব্যবহার করা হয়।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, প্রথম পর্যায়ের সেই পরীক্ষা সফল হয়েছে। ভ্যাকসিনয় সামান্য কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে বলে তাদের মনে হয়েছে। পরবর্তী পরীক্ষার আগে তা ঠিক করে নেওয়া হবে। এর মধ্যেই যাদের উপর ভ্যাকসিনের প্রয়োগ হয়েছে সাধারণ প্যারাসিটামল খেলেই তাদের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কেটে যাবে বলেও জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

শিম্পাঞ্জিদের শরীরে সাধারণ ফ্লু হয় যে ভাইরাসের কারণে, সেই ভাইরাসকে ব্যবহার করে জেনেটিক্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সাহায্যে করোনার ভ্যাকসিন তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, অত্যন্ত জটিল এক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মূল ভ্যাকসিনের কম্পোজিশনে পৌঁছনো গিয়েছে। এত কম সময়ে এত জটিল পরীক্ষা নজিরবিহীন বলেও মনে করছেন তারা। তাদের দাবি, এই ভ্যাকসিন শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরির পাশাপাশি টি সেল তৈরি করছে, যা পরবর্তীকালে করোনার ভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করা তা নিষ্ক্রিয় করে দেবে।

সোমবার অক্সফোর্ডের বিজ্ঞানীরা প্রথম পর্যায়ের ক্লিনিকাল ট্রায়াল সফল ঘোষণা করার পরেই বড় আকারে এর উৎপাদন কবে থেকে শুরু হবে, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, বরিস জনসনের সরকার ইতিমধ্যেই ১০ কোটি ভ্যাকসিন তৈরির বরাত দিয়ে দিয়েছে।

ভারতের যে সংস্থার সঙ্গে অক্সফোর্ড চুক্তিবদ্ধ, সেই সিরাম ইনস্টিটিউটও এপ্রিল মাসে জানিয়েছিল সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাস থেকেই যাতে বাজারে ভ্যাকসিন পাওয়া যায় তার জন্য সব রকম চেষ্টা চালাচ্ছে তারা। সোমবার অক্সফোর্ডের ঘোষণার পরে সিরাম ইনস্টিটিউটের অধিকর্তা আদার পুনাওয়ালা জানিয়েছেন, ‘আমরা অত্যন্ত খুশি। ভারতে এই ভ্যাকসিন পরীক্ষা করার জন্য লাইসেন্সের আবেদন করেছি আমরা। লাইসেন্স পেলে দ্বিতীয় পর্যায়ে মাস স্কেলে ক্লিনিকাল ট্রায়াল শুরু হয়ে যাবে। একই সঙ্গে ভ্যাকসিনের উৎপাদনও শুরু করে দেওয়া হবে।’

অক্সফোর্ডের বিজ্ঞানীরা অবশ্য জানাচ্ছেন, পরীক্ষার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত উৎপাদনে না যাওয়াই ভালো। কারণ, শেষ ধাপ পর্যন্ত ভ্যাকসিনের কম্পোজিশনে সামান্য হলেও রদবদল প্রয়োজন হতে পারে। উৎপাদন সংস্থাগুলির সে কথা মাথায় রাখা উচিত। সূত্র: ডয়চে ভেলে।