‘করোনায় অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণের ঝুঁকি বেড়েছে’

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনার মহামারিতে দেশে পরিবার পরিকল্পনার বিভিন্ন সেবা ও উপকরণ প্রাপ্তির সহজলভ্যতা কমে গেছে। যে কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে।

শনিবার দুপুরে ৩১তম বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উদযাপন ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মিডিয়া ফেলোশিপ প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। এছাড়াও করোনাকালে কিশোরীদের প্রজনন স্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা।

অন্যান্য বছর অনাড়ম্বরভাবে দিবসটি পালিত হলেও করোনার কারণে এবার জনসংখ্যা দিবসের কর্মসূচিতে বেশ পরিবর্তন আনা হয়। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে দিবসটি উপলক্ষে ভার্চুয়াল আলোচনা সভা, সংবাদপত্রে ক্রোড়পত্র প্রকাশ, পোস্টার ও লিফলেট বিতরণ করা হয়। এছাড়া দিবসটি উপলক্ষে একটি প্রতিপাদ্য সঙ্গীত ও প্রামাণ্য চিত্র তৈরি করা।

এবারের বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের প্রতিপাদ্য হলো- মহামারি কোভিড-১৯কে প্রতিহত করি, নারী ও কিশোরীর সুস্বাস্থ্যের অধিকার নিশ্চিত করি।’

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, এবারের বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের মূল লক্ষ্য মহামারিতে নারী ও কিশোরীদের যৌন প্রজনন স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজনীয়তা এবং এ সকল সেবা অপ্রাপ্তির ফলে সৃষ্ট জটিলতার বিষয়ে সবাইকে সচেতন করা।

তারা বলেন, করোনা মহামারিতে পরিবার পরিকল্পনার বিভিন্ন সেবা ও উপকরণ প্রাপ্তির সহজলভ্যতা হ্রাস পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশে দেশে লকডাউন পরিস্থিতিতে শুধু করোনা বিষয়ক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের ক্ষেত্রে অধিক গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে তাই অতি গুরুত্বপূর্ণ ‘নারী ও কিশোরীদের যৌন-প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা’ বিষয়টি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

১৯৮৯ সালে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির গভর্নিং কাউন্সিল জনসংখ্যা ইস্যুতে গুরুত্ব প্রদান ও জরুরি মনোযোগ আকর্ষণের লক্ষ্যে বিশ্বব্যাপী ১১ জুলাই বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। ১৯৯০ সালের ১১ জুলাই প্রথমবারের মতো ৯০টি দেশে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উদযাপিত হয়। এরপর থেকে প্রতিবছর দিবসটি পালিত হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, করোনার মধ্যেই বিশ্বব্যাপী বৃদ্ধি পেয়েছে নারীর প্রতি সহিংসতা। যা প্রজনন স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। তাই কীভাবে নিরাপত্তা বেষ্টনি তৈরি করে এই কঠিন যুদ্ধ জয় করা যায় এজন্য প্রত্যেক দেশ নিজস্বভাবে যৌন প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকার বিষয়টি অধিক গুরুত্ব দিয়ে কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। যাতে ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হয়।

জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনা যদি চলমান থাকলে এবং লকডাউন পরিস্থিতি যদি আরও ছয় মাস দীর্ঘ হয় তাহলে নিম্ন-মধ্যম ও নিম্ন আয়ের ১১৪ দেশে ৪৭ মিলিয়ন (চার কোটি ৭০ লাখ) নারী আধুনিক জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি থেকে বঞ্চিত হবেন। আর অতিরিক্ত সাত মিলিয়ন (৭০ লাখ) নারী অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণের শিকার হবেন।

প্রতিবেদন অনুসারে, কোভিড-১৯ পরিস্থিতি বাল্যবিবাহের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলবে। বিশ্বে ১৩ মিলিয়ন (এক কোটি ৩০ লাখ) বাল্যবিবাহ হবে। এর মধ্যে আট মিলিয়ন (৮০ লাখ) বাল্যবিবাহ হবে শুধু বাংলাদেশে। যেখানে বাল্যবিবাহের হার ৫০ শতাংশেরও বেশি।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মো. আলী নূরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাহিদ মালেক স্বপন। আর বিশেষ অতিথি ছিলেন মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আবদুল মান্নান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. আবুল কালাম আজাদ, ইউএনএফপিএর দেশীয় প্রতিনিধি ডা. আশা টেরকেলন প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য দেন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সাহান আরা বানু।

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের আইইএম ইউনিটের এই ভার্চুয়াল আলোচনায় শ্রেষ্ঠ পরিবার পরিকল্পনা কর্মী ও শ্রেষ্ঠ সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কার দেয়া হয়। এছাড়াও মিডিয়া ফেলোশিপ এবং মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড-২০২০ প্রদান করা হয়।