মৃত্যু বেড়ে ২০ স্যাম্পল পরীক্ষার শতকরা হারে আক্রান্ত ১৩.৪৯

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে এমন শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা চাঁদপুর জেলায় এখন আড়াইশ’ পার হয়েছে। এ সংখ্যা এখন ২৫৫। তবে এ গুপ্ত ভাইরাসটি কত সংখ্যক মানুষকে সংক্রমিত করলো তা পরীক্ষা ছাড়া নিরূপণ করা সম্ভব নয়। গতকাল পর্যন্ত এ জেলার যত সংখ্যক মানুষের স্যাম্পল পরীক্ষা করা হয়েছে, তার প্রাপ্ত রিপোর্ট হিসেবে আক্রান্তের হার ১৩.৪৯%। এ জেলার সিকি কোটি মানুষের মধ্যে মাত্র দুই সহস্রাধিক মানুষের স্যাম্পল এ পর্যন্ত পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে আড়াইশ’র মতো। তবে স্যাম্পল পরীক্ষা সকলের করা হয় না এটাও ঠিক। যাদের মধ্যে করোনাভাইরাসের উপসর্গ দেখা যাবে, শুধুমাত্র তাদেরই স্যাম্পল পরীক্ষা করা হয়ে থাকে। এদিকে গতকাল একদিনেই ২০ জন চূড়ান্তভাবে সুস্থ হয়েছে উঠেছেন। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে তাদেরকে সুস্থ ঘোষণা করা হয়। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন : জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শেখ মহিউদ্দিন রাসেলের পরিবারের ৬ সদস্য এবং পুলিশের ৫ সদস্য।

এদিকে উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়াদের মধ্যে পজিটিভের সংখ্যাও ততো বেশি নয়। এ পর্যন্ত করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া রোগীর সংখ্যা এ জেলায় হবে প্রায় অর্ধশত। মৃত্যুর পর তাদের স্যাম্পল সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়। এ পরীক্ষায় দেখা গেছে যে, এ পর্যন্ত ১৯ জনের পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে। নেগেটিভ এসেছে ২০ জনেরও বেশি। রিপোর্ট আসার অপেক্ষায় আছে প্রায় দশ জনের। তাই উপসর্গ নিয়ে মারা গেলেই যে করোনায় আক্রান্ত, তা বলা যাবে না। তবে স্যাম্পল পরীক্ষার হার অনুযায়ী আক্রান্তের সংখ্যা একেবারেই কম নয়। শতকরা হারে এই সংখ্যা ১৩.৪৯%। আর আক্রান্তের হিসেবে মৃত্যুর শতকরা হার হচ্ছে ৭.৮৪%।

চাঁদপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডাঃ ঈসা রুহুল্লাহ গতকাল বৃহস্পতিবার জানান, এদিন জেলার মোট ১১৬ জনের রিপোর্ট এসেছে। এর মধ্যে পজিটিভ রিপোর্ট আসে ১৯ জনের। এই ১৯ জনের মধ্যে মৃত একজন। তার নাম আবুল কাশেম (৫০), বাড়ি হাজীগঞ্জ শহরের মকিমাবাদ এলাকায়। তিনি গত সোমবার করোনা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে মারা যান। মৃত্যুর পর তার স্যাম্পল সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়। গতকাল তার রিপোর্ট আসে পজিটিভ অর্থাৎ তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এই ১৯ জনের উপজেলা ভিত্তিক সংখ্যা হচ্ছে : সদর উপজেলায় ৫, হাজীগঞ্জে ৪, শাহরাস্তি ৪, মতলব উত্তর ৩, মতলব দক্ষিণ ১ ও কচুয়া ২ জন। সদর উপজেলার পাঁচজনের মধ্যে একজন শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের, বাকি চারজন চাঁদপুর শহরের।

ডাঃ ইসা রুহুল্লাহ আরো জানান, গতকাল পর্যন্ত চাঁদপুর জেলা থেকে কোভিড-১৯ ভাইরাস পরীক্ষার জন্যে ঢাকা পাঠানো হয়েছে ২ হাজার ১শ’ ৪৫ জনের স্যাম্পল। এর মধ্যে গতকালকের ছিলো ৫২জনের। গতকাল পর্যন্ত রিপোর্ট এসেছে ১ হাজার ৮শ’ ৮৯ জনের। এই সংখ্যার মধ্যে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয় ২শ’ ৫৫ জনের। এর মধ্যে মৃত ২০ জন। আর গতকাল পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৬৩ জন। এছাড়া ১শ’ ৭২ জন হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে এবং হোম আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন আছেন।

চাঁদপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সাজেদা বেগম পলিন জানান, গতকাল যে পাঁচজন তাঁর উপজেলায় নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন তাদের একজন শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের। তার বয়স ৩৮, মহিলা। অন্য চারজন চাঁদপুর শহরের। এরা হচ্ছেন শহরের আদালত পাড়ার দুই ভাই, বয়স ১৪ ও ১৮। এদের বাবা ও মা আগেই আক্রান্ত হয়ে আছেন। ব্যাংক কলোনী এলাকার এক ঔষধ কোম্পানির রিপ্রেজেন্টেটিভ, বয়স ৪০ এবং খলিশাডুলি এলাকার ২৬ বছরের এক যুবক।