সুস্থ থাকার ৫ উপায়

করোনাভাইরাসের কারণে ঘরবন্দি বেশিরভাগ মানুষ। অনেকদিন ধরে ঘরে থাকার ফলে নানা কারণে শরীরে অসুস্থতা ভর করতে পারে। তবে একটু সচেতন হলে এবং কয়েকটি উপায় অবলম্বন করলে সুস্থ থাকতে পারেন আপনি। চলুন এমন পাঁচটি উপায় সম্পর্কে জেনে নিই।

সূর্যের আলো গ্রহণ করুন

শরীর ভালো রাখার জন্য আলোরও যে একটা ভূমিকা আছে তা আমরা কতটা ভেবে দেখি? এটি একটি পরীক্ষিত সত্য। যারা অনেকদিন ধরে ঘরবন্দি রয়েছেন তাদের দিনে অল্প সময়ের জন্য হলেও একটু সুর্যের আলো গায়ে লাগানো উচিত। শহরে থাকলে বাসার ছাদে বা বারান্দায় অথবা জানালা দিয়ে আসা রোদও গায়ে লাগাতে পারেন। ভোরের বা বিকেলের মৃদুমন্দ রোদ লাগানো ভালো।

যদি সূর্যের আলো থেকে অনেক বেশি দূরে থাকেন তাহলে মানসিক অবসাদ আসতে পারে। বিপরীতভাবে, সূর্যে আলো হরমোন উজ্জীবিত করে অবসাদ কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে।

ইতিবাচক থাকুন

আপনার শরীর কী রকম থাকবে তার অনেকটাই নির্ভর করে আপনার দৃষ্টিভঙ্গির ওপর। আপনি যদি সত্যিই মনে করতে থাকেন যে আপনি ভালো নেই, তার মানে আপনি আসলেই ভালো নেই। যদি মনে করতে থাকেন আপনি চমৎকার আছেন তার মানে বুঝতে হবে আপনার শরীর স্বাস্থ্য বেশ আছে।

অন্যভাবে বলতে গেলে বলা যায় আপনার মন অনেকাংশে ঠিক করে আপনার শরীর কেমন থাকবে সেই ব্যাপারটা। কারণ এটাও সত্য যে শুধুমাত্র মনের জোরেই অনেক রোগ বা অসুখ থেকে দিব্যি সেরে উঠা যায়। অতএব ইতিবাচক হওয়ার মানসিকতা গড়ে তুলুন। আপনি মানসিক চাপের শিকার হলে আপনার শরীর রোগের শিকার হয়ে সমস্যা আরও বাড়াবে। তাই মানসিক চাপ কাটান।

ঘরবন্দি অবস্থায় ভালো না লাগলে-

# পছন্দমতো কোনো কাজ করুন বা গান শুনুন

# হালকা লাফ ঝাঁপ করুন, মিনিট পাঁচেকের মতো ঠাণ্ডা কোনো পানীয় পাইপ দিয়ে ধীরে ধীরে খান, যতক্ষণ ধরে সম্ভব।

# চোখ বন্ধ করে কোনো একটি সংখ্যা ভাবুন, ভেবেই চলুন, দেখবেন একসময় মন ফাঁকা হয়ে গিয়েছে শুধু ওই সংখ্যাটি ছাড়া।

# শরীরের সমস্ত পেশি একবার শক্ত করে পরমুহূর্তেই শিথিল করে দিন। এক এক বার এক এক জায়গার পেশি, যেমন হাত, পা, কাঁধ, ঘাড় এর পেশি টান টান করে আবার শিথিল করুন। বার কয়েক নিয়মিত করলে অবশ্যই উপকৃত হবেন।

খাদ্যাভ্যাসে নজর দিন

রমজান মাস চলছে। বেশিরভাগ মানুষই রোজা পালন করছেন। সারাদিন না খেয়ে থাকার পর সন্ধ্যায় এবং রাতে অপরিমিত খাবার গ্রহণ থেকে বিরত থাকুন। সারাদিন বাসায় বসে থাকতে হচ্ছে এমন অবস্থায় খাবার হালকা হলেই বেশি ভালো।

আর যারা কোনো সমস্যা বা কোনো কারণে রোজা পালন করছেন না তারা সারাদিন ভারী খাবার খাবেন না। রাতে একেবারেই না। সকালের নাস্তা হবে মূলত কার্বোহাইড্রেট প্রধান। ফ্যাট কম। দুপুরে মাছ, সালাদ, ভাত বা রুটি, শাকসবজি। এক গ্লাস নরমাল পানিতে লেবুর রস দিয়ে খেলে হজম হয় অ্যাসিডিটি ছাড়াই।

শরীর সুস্থ রাখতে গেলে খাবারের দিকে নজর দেয়ার অন্যতম কারণ হলো- আপনি কী খাচ্ছেন তার উপর আপনার মুড কেমন থাকবে তা অনেকটাই নির্ভর করে। হালকা খাবার, ভারী খাবার, মিষ্টি খাবার, তেলমশলা যুক্ত খাবার- এক এক রকম খাবার আপনার শরীরের ওপর এক এক রকম প্রভাব ফেলে।

খাবারের প্রভাবের পরীক্ষা আপনি নিজেই খুব সহজে করতে পারেন। সপ্তাহে ৭ দিন সারাদিনে কী কী খাচ্ছেন তার একটা তালিকা করে নিজেই দেখতে পারেন কোনদিন এবং কখন আপনি বেশ তরতাজা অনুভব করছেন। সারাদিনের মত খাদ্য গ্রহণের পরিমান আন্দাজ করে নিন। সেটিকে দিনে ৪-৫ ভাগে ভাগ করুন। এভাবে ৭ দিনের হিসাব রেখে দেখুন খাবার / পরিশ্রম ঠিক মতো হচ্ছে কিনা। সেই অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাস করুন। ঠিক না মনে হলে বা একঘেয়েমি চলে আসলে পরিবর্তন করুন।

নিয়মিত ফলের রস খাওয়ার চেষ্টা করুন

রোগবালাই থেকে বাঁচতে আর এর দীর্ঘকাল তরতাজা থাকতে টাটকা ফল এর তুলনা নেই। ফল ও শাকসবজির রসে থাকে প্রচুর অ্যান্টি অক্সিডেনট যা দূষিত পদার্থ থেকে শরীর কে রক্ষা করে। যেমন ধরুন গাজরের রস। দৈনিক অল্প করে হলেও গাজরের রস খেলে যে কেউই উপকৃত হবেন। গাজরের রসে রয়েছে বিটা ক্যারোটিন যা রোগ প্রতিরোধ করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটায়।

তবে ফলের রস বলতে অনেকেই বাজারের বোতলজাত বা প্যাকেটজাত জুস বুঝে থাকেন। বলে রাখা ভালো, এসব জুস যতই প্রাকৃতিক বলে দাবি করা হোক না কেন, এতে প্রিজারভেটিভ থাকেই। যা শরীরের জন্য ক্ষতিকারক। তাই বাজারের ২৫০ মিলি জুস এর থেকে বাড়িতে ফল পিষে বের করা ১০০ মিলি ফলের রস খাওয়া উত্তম। মৌসুমি রসালো ফল থেকেই যথেষ্ট পুষ্টি পাওয়া যায়। তবে বাড়িতে রস তৈরি করার আগে কয়েকটি কথা মনে রাখতে হবে। যেমন ফলের খোসা, বিচি ইত্যাদি রস করবেন না। কারণ এতে প্রাকৃতিক বিষাক্ত পদার্থ থাকে যা ফলের রসের সাথে বিক্রিয়া করে পুষ্টিগুণ কমিয়ে দেয়।

পরিশ্রম করুন বা ব্যায়াম করুন

জানেন কি পেশি টান টান করলে, অর্থাৎ নিয়মিত স্ত্রেচিং করলে আপনার মেরুদণ্ড এবং হারের জয়েন্টগুলোর সচলতা বজায় থাকে অনেকদিন? শরীরে রক্ত চলাচল বাড়ে, শরীরের সব অঙ্গে অক্সিজেন সুষম ভাবে পৌঁছায়। ফলে শরীর বেশি কর্মক্ষম থাকে, কাজে কর্মে উৎসাহ আসে। মাঝ বয়সের পর কোমরের ব্যথা হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।

নিয়মিত পরিমাণ মতো ব্যায়াম করলে যেসব উপকার হয় তার কয়েকটি হলো-

# মেরুদণ্ড নমনীয় রাখে

# শরীরের জয়েন্ট শক্ত হয়ে খিঁচে যাওয়া আটকায়

# দেহ মনে এনার্জি বাড়ায়

# নিয়মিত করলে কোষ্ঠবদ্ধতার সমস্যা কিছুতা হলেও লাঘব করে।

# দীর্ঘকাল হাড় শক্ত রাখতে সাহায্য করে।

# আপনার হার্ট আরও ভালো কাজ করবে

# ব্লাড সার্কুলেশন ভালো চলবে

# ফুসফুসের কার্যক্ষমতা দীর্ঘকাল ভালো থাকবে

# হাই ব্লাড প্রেসার ও কোলেস্টেরল কমবে

# মানসিক চাপ আপনাকে কাবু করবেনা, অবসাদ কাটবে।

একটু লক্ষ করলেই দেখবেন আমাদের শারীরিক মানসিক সর্বোপরি সব সুস্থতাই আমাদের দৈনন্দিন জীবনের ওপর অনেকখানিই নির্ভর করে। কিছু সংশোধন, কিছু সংযোজনই পারে আপনাকে সবসময় সুস্থ রাখতে।