যে তিন কারণে মসজিদকে ‘অস্থায়ী হাসপাতাল’ বানানো জায়েজ

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য মসজিদের কিছু অংশকে ‘অস্থায়ী হাসপাতাল’ হিসেবে রূপান্তর করা যেতে পারে বলে ফতোয়া দিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অব মুসলিম স্কলারস।

সংস্থাটির সেক্রেটারি জেনারেল, আলী মহিউদ্দিন আল-কারাআহ দাঘির জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়, এই উদ্যোগ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃতপ্রায় সুন্নতের পুনরজীবন এবং ইসলামের সহনশীলতা ও মানবতার প্রতি যত্ন প্রদর্শনের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হবে।

আল-কারাআহ দাগি বলেন, রোগীদের জন্য মসজিদ ব্যবহার করা নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি সুন্নাহ। কেননা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবি হজরত সা’দ ইবনে মুআজের (রা.) চিকিৎসার জন্য মসজিদের এক কোনায় তাঁবু গেঁড়ে ছিলেন। সেখানে নারী সাহাবি রাফীদা (রা.) হজরত মুআজের (রা.) চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন।

হজরত রাফীদার (রা.) জন্য মসজিদে একটি তাঁবু নির্ধারিত ছিল। সেখান থেকে তিনি চিকিৎসাসেবা প্রদান করতেন। সেখানে মুশরিক ও আহলে কিতাবরাও চিকিৎসা নেয়ার জন্য আসত।

আল-কাররা দাগি আরও বলেন, মসজিদকে অস্থায়ী হাসপাতালে রূপান্তরিত করার বেশ কয়েকটি উপকারী দিকও রয়েছে।

১. বন্ধ মসজিদ খোলার ব্যবস্থা হবে।

২. অসুস্থ ব্যক্তিদের কষ্ট লাঘবে মসজিদ থেকে উপকৃত হওয়া যাবে।

৩. মুসলিম বিশ্বের ভেতর ও বাইরে ইসলামের একটি ভালো চিত্র তুলে ধরা যাবে যে, মসজিদগুলোও মানবতার দুর্ভোগ লাঘবে অংশ গ্রহণ করে।

তবে এই উদ্যোগটির বাস্তবায়ন মসজিদ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও তাদের সমন্বয়ের ওপর নির্ভর করে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

প্রসঙ্গত, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর বিশ্বের বহু দেশে মসজিদে নিয়মিত নামাজ ও জুমার জামাত বন্ধ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ইসলামিক স্কলারদের এ শীর্ষ সংঠনটি এ ফতোয়া জারি করে।

২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অব মুসলিম স্কলারসের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন প্রখ্যাত ইসলামিক স্কলার ড. ইউসুফ কারজাভী।

আনাদোলু আরবি অবলম্বনে- মুহাম্মাদ শোয়াইব