সরকারের ৭২৫০০ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা

আমি সরকারের প্রণোদনা প্যাকেজ এর কথাই বলছি; সরকার ৭২৫০০ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে । ইতোমধ্যে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা হয়েছে। এই টাকা দেশের ১৭ কোটি মানুষের মধ্যে ভাগ করে দিলে কে কত পায় ? ইত্যাদি, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে গত ক’দিনের আলোচনার মুল কেন্দ্রবিন্দু। আসলে উল্লিখিত সমস্ত বক্তব্য ছিল ” প্রণোদনা ” সম্পর্কে একদম না বুঝে।
আমি নিজেও এ সম্পর্কে খুব ভালো বুঝিনা। তবুও বলছি; প্রণোদনা অর্থ হচ্ছে, উদ্দীপনা, কর্মপ্রেরণা, কাজে উৎসাহ বা অনুপ্রেরণা দেওয়া। অর্থাৎ কোন সংকটকালীন সময়ে স্বল্প সুদে ঋণ ও ভর্তুকি দেওয়া। যেমন, বন্যা বা যে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সরকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের স্বল্প সুদে ঋণ বা ভর্তুকি দিয়ে থাকে। অনুরূপভাবে ব্যবসায়িদেরও বিভিন্ন সংকটকালীন সময়ে তদ্রূপ সুযোগ সুবিধা দিয়ে থাকেন। সরকারের দেওয়া এসব আপৎকালীন সময়ের সুযোগ সুবিধাই হচ্ছে ” প্রণোদনা “। যাতে সংকটকালীন সময়েও কেউ কর্ম স্পৃহা হারিয়ে না ফেলে।

এবার আসল কথায় আসি। সরকার ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও সার্ভিস সেক্টরে ৩০ হাজার কোটি টাকা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে ২০ হাজার কোটি টাকা ৯শতাংশ সুদে ঋণ সুবিধা দিয়েছে। উক্ত ৯ শতাংশ সুদের মধ্যে সরকার ৫শতাংশ ভর্তুকি দিবে। এলসির মাধ্যমে কাঁচামাল আমদানির জন্যও সরকার ৯ শতাংশ সুদে ১২৭৫০ কোটি টাকার ঋণ সুবিধা ঘোষণা করেছে। তাছাড়া ৭ শতাংশ সুদে প্রি শিপমেন্ট্ ক্রেডিট রিফাইনার্স স্কিমে ৫ হাজার কোটি টাকা এবং রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক কর্মচারীদের বেতন ভাতা পরিশোধের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। এই হলো সব মিলিয়ে সরকারের ৭২৫০০ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ।

বাংলাদেশসহ বিশ্ব ব্যাপী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে বিপর্যস্ত অর্থনৈতিক মন্দা কাটিয়ে উঠতে সরকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এখানে দান অনুদানের কোনো বিষয় নেই কিংবা লুটপাটেরও কোনো সুযোগ নেই। ইহা একটি বিশেষ ঋন সুবিধা মাত্র। এই মহা দুর্যোগের সময় একটি কল্যাণ রাষ্ট্রের সরকার হিসেবে জনগণের মাঝে ত্রাণ সহায়তার সাথে ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ এর কোনো সম্পর্ক নেই।
লেখক; মোঃ মহসীন মিয়া (মানিক)
এডভোকেট ও এ পি পি জজকোর্ট
ঢাকা।