শতফুল ফুটতে দাও : বিরাজনীতিকীকরণ দেশের জন্য বিপদ ডেকে আনবে

বাংলাদেশে এখন বিরাজনীতিকীকরণের প্রক্রিয়া চলছে। মোটা দাগে বলা যায়, এ প্রক্রিয়ার সূচনা হয়েছিল এক-এগারোর সেনাসমর্থিত অসাংবিধানিক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে। এ সরকার ক্ষমতা গ্রহণের দুই-তিন সপ্তাহ পর রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে ভয়াবহ সব দুর্নীতির মামলা দায়ের করে।

এসব মামলার ফলে যারা গ্রেফতার হয়েছিলেন, তাদের মধ্যে বেশির ভাগই ছিল বিএনপির নেতাকর্মী। আওয়ামী লীগের বেশকিছু ডাকসাইটে নেতার বিরুদ্ধেও তথাকথিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার দুর্নীতির অভিযোগে মামলা দায়ের করেছিল।

মামলার জাল থেকে মুক্ত থাকতে পারেননি আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও।

সেনাসমর্থিত অসাংবিধানিক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শাসনামলেই এসব মামলার বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। অভিযোগ আছে, নিম্ন আদালতে মামলা চলাকালে সামরিক বাহিনীর কোনো কোনো কর্মকর্তা আদালতে উপস্থিত হতেন। কারণ তারা চাইছিলেন অভিযুক্তদের শাস্তি নিশ্চিত হোক। খুব তাড়াহুড়া করে নিম্ন আদালতে বিচার প্রক্রিয়া চলছিল এবং অনেককে দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড দেয়া হয়েছিল।

ভুক্তভোগীরা আদালতে সামরিক কর্মকর্তাদের উপস্থিতি দেখে বুঝতে পেরেছিলেন, তাদের দণ্ডিত করা হবেই এবং তা-ই হয়েছিল অতি সংক্ষিপ্ত সময়ের বিচারে। আমরা পাকিস্তান আমলে সামরিক আদালতের বিচার দেখেছি।

সামরিক আদালতের মধ্যে সংক্ষিপ্ত সামরিক আদালতের সংখ্যাই ছিল বেশি। এসব আদালতে ১০-১৫ মিনিটের শুনানির মধ্য দিয়ে বিচার প্রক্রিয়া নিষ্পন্ন হতো। ফখরুদ্দিন-মঈনুদ্দিনের সময়ে সংক্ষিপ্ত সামরিক আদালত গঠন করা হয়নি।

বিচার বেসামরিক দেওয়ানি আদালতেই হয়েছে। কিন্তু বিচারক একজন বেসামরিক নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও বিচার প্রক্রিয়ার ওপর সামরিক কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ শ্যেন দৃষ্টি থাকার ফলে বিচারককে রায় দিতে হয়েছে সামরিক কর্তৃপক্ষের মেজাজ-মর্জির ওপর দৃষ্টি রেখে। তাই ওই সময় এসব আদালতকে বলা হতো ক্যাঙ্গারু কোর্ট।

সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টাদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা দলবল নিয়ে উপস্থিত থেকে জাতিকে একটি মেসেজ দিতে চেয়েছিলেন। মেসেজটি হল, তারা সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে গ্রহণযোগ্যতা দিতে চায়। অপরদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে কেউ শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত না হয়ে এ সরকারকে গ্রহণযোগ্যতা প্রদান থেকে বিরত থেকেছে।

সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কর্মকাণ্ডের ওপর এখন পর্যন্ত কোনো নির্ভরযোগ্য ইতিহাস রচিত হয়নি। ফলে এ সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে একটা পারসেপশন দাঁড়িয়ে গেছে। পারসেপশনটি সত্যও হতে পারে অথবা মিথ্যাও।

ফখরুদ্দিন-মঈনুদ্দিনের সরকার দেশবাসীর মনে ভীতির সঞ্চার করতে পেরেছিল। এ সরকারের রোষানল থেকে ব্যবসায়ীরাও মুক্ত থাকতে পারেনি। এই সরকার দু’বছরের বেশি ক্ষমতায় থাকবে না বলে ঘোষণা দিয়েছিল।

এ দু’বছরের মধ্যে তারা তাদের চিন্তামতো কিছু সংস্কার কার্যক্রম চালু করতে চেয়েছিল। দু-একটি কাজে তারা সফলও হয়েছিল। দৃষ্টান্তস্বরূপ বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান করা। এ পরিচয়পত্রে প্রত্যেক নাগরিকের একটি একক সংখ্যা দেয়া হয়েছিল। নাগরিকদের ছবিও জাতীয় পরিচয়পত্রে যুক্ত করা হয়েছিল।

এ কাজটির অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য ছিল একটি ত্রুটিমুক্ত ভোটার তালিকা তৈরি করা, ফলে কেউ জাল ভোট দিতে পারবে না বলে মনে করা হয়েছিল। বাস্তবে যে তা সম্ভব নয় সেটা উপলব্ধি করা যায় ২০০৮, ২০১৪, ২০১৯-এর হালহকিকত দেখে।

প্রশাসন যদি ক্ষমতাসীনদের নিয়ন্ত্রিত থাকে এবং প্রশাসনও যদি ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীকে তুষ্ট করার জন্য ব্যতিব্যস্ত থাকে এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া অস্বচ্ছ হয়ে পড়ে, তাহলে নিছক ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা দিয়ে কোনো ধরনের সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হয় না।

বাংলাদেশে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রবর্তিত হয়েছিল সুষ্ঠুভাবে নাগরিকদের ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করার জন্য। এখন নির্দ্বিধায় বলা যায়, এ দেশে কোনো দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।

নির্বাচন সুষ্ঠু করতে হলে সময়োপযোগী তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু করতে হবে। প্রয়োজন হবে এমন একটি নির্বাচন কমিশন যে কমিশন উচ্চতর মহলের কোনো হস্তক্ষেপকে মেনে নেয় না এবং নির্বাচনী আইন ও বিধি মোতাবেক এর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে সক্ষম।

ফখরুদ্দিন-মঈনুদ্দিনের সরকার যখন দুর্নীতির অভিযোগে রাজনীতিকদের গ্রেফতার করতে শুরু করল, তখন জনগণ সন্তোষ প্রকাশ করেছে এবং মনে মনে ভেবেছে অপরাজনীতির অবসান হবে। কিন্তু জনগণ এ ধারণার মধ্যে বন্দি থাকেনি।

তারা চেয়েছিল এমন একটি জুলুমবাজ সরকারের অবসান হোক। বিশেষ করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের হাটবাজার ও দোকানপাট যা কিছু ছিল, সেগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার ফলে হাজার হাজার খুদে ব্যবসায়ীর সর্বনাশ হয়ে যায়।

অর্থনীতির চাকা স্থবির হয়ে পড়ে। ফখরুদ্দিন-মঈনুদ্দিনরা শেষ পর্যন্ত চরম অজনপ্রিয় হয়ে পড়েন। সম্ভবত জেনারেল মঈনুদ্দিন চেয়েছিলেন, রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে তার অবস্থান আরও দৃঢ় এবং দীর্ঘস্থায়ী করতে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠে সামরিক বাহিনীর কিছু লোকের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের অপ্রীতিকর একটি ঘটনার ফলে সারা দেশে অভ্যুত্থানের মতো পরিবেশ সৃষ্টি হয়। জেনারেল মঈনুদ্দিন হয়তো বুঝতে পেরেছিলেন তারা বাঘের পিঠে চড়ে বসেছেন, কিন্তু বাঘের পিঠ থেকে নামার কোনো সুযোগ নেই। নামলেই বাঘ তাদের খেয়ে ফেলবে।

এমনই এক পরিস্থিতিতে জেনারেল মঈনুদ্দিন ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির শরণাপন্ন হন এবং ক্ষমতা থেকে বিদায় নেয়ার পর যাতে কোনো প্রতিশোধের ঘটনা না ঘটে তার জন্য সাহায্য ভিক্ষা করলেন। প্রণব মুখার্জি তার লেখা একটি গ্রন্থে এ ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। প্রণব মুখার্জি তাকে আশ্বস্ত করেছিলেন।

এ আশ্বাসের পরিণামে শেষ পর্যন্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিপুল ভোটে ২০০৮ সালে বিজয়ী হয়। তারা সরকার গঠন করে এবং এর পরবর্তী দুই মেয়াদে যেসব সংসদ নির্বাচন হয় সেসব নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।

নির্বাচনে এ রকম বিজয় কীভাবে সম্ভব হয়েছিল, দেশবাসী তা উপলব্ধি করতে সক্ষম। আওয়ামী লীগ এ যাত্রায় ১০ বছরেরও অধিককাল ক্ষমতার মসনদে আছে। এর পুরোটাই জনপ্রিয়তার ফসল নয়। এর মধ্যে ভিন্ন ধরনের উপাদানও জড়িয়ে আছে।

ফখরুদ্দিন-মঈনুদ্দিনের সরকারের স্ট্র্যাটেজিক ভুল ছিল একসঙ্গে দেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের ওপর হামলা চালানো। যুদ্ধের নিয়ম হল- একসঙ্গে সব ফ্রন্টে যুদ্ধ করা যায় না। যুদ্ধে জয়লাভের জন্য মিত্রের প্রয়োজনীয়তা আছে।

ফখরুদ্দিন-মঈনুদ্দিনের সরকার মিত্রহীন হয়ে পড়েছিল। ফলে তাদের ভিন্ন রাষ্ট্রের সহায়তা নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে সরে যেতে হয়। ঘটনাবলি থেকে একটি জিনিস স্পষ্ট হয়েছে। সেটা হল, বাংলাদেশে কখন কারা ক্ষমতায় থাকবে কিংবা থাকবে না, তা অনেকটাই নির্ভর করে শক্তিশালী বিদেশি রাষ্ট্রের ড়েড়ফরিষষ-এর ওপর। এতে রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব বিনষ্ট হয়।

বাংলাদেশে বিরাজনীতিকীকরণ মাটির গভীরে অনেক দূর পর্যন্ত শিকড় বিস্তার করেছে, তা দিবালোকের মতো স্পষ্ট হয়ে ধরা পড়েছে কিছুদিন আগে অনুষ্ঠিত ঢাকা দক্ষিণ ও ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে। ভোটারদের বিশাল একটি অংশ, হতে পারে তা ৮০ শতাংশেরও বেশি, তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেনি।

অনেকে মনে করেন, জনগণের মধ্যে রাজনীতি সম্পর্কে বিতৃষ্ণা সৃষ্টি হয়েছে। তাই তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করেনি। এমনকি আওয়ামী লীগও নিজ দলের সমর্থকদের ভোট কেন্দ্রে নিয়ে আসতে পারেনি। ভোটকেন্দ্রগুলো ছিল কার্যত ভোটারহীন।

বিরোধী দলের সমর্থকরা ভেবেছে, ভোট দিয়ে কী হবে। তাদের সমর্থকরা ভোটাধিকার প্রয়োগ করলেও শেষ পর্যন্ত তা গণনায় আসবে না। বিগত কয়েকটি নির্বাচনের কাণ্ডকারখানা দেখে তারা বুঝে নিয়েছে যতই ভোটাধিকার প্রয়োগ করা হোক না কেন, জয়লাভ করবে আওয়ামী লীগের প্রার্থী।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সমর্থকরা ভেবেছে, ভোটকেন্দ্রে যাওয়া না যাওয়ার মধ্যে কোনো পার্থক্য সৃষ্টি হবে না। আওয়ামী লীগের প্রার্থীরাই বিজয়ী ঘোষিত হবে। রাজনৈতিক দলের সাধারণ সমর্থকরা যখন এ রকম ভাবতে শুরু করে তখন বুঝতে হবে, গণতন্ত্র সুরক্ষায় তাদের অংশগ্রহণ কোনোরকম সুফল দেবে না। এসব থেকে অনুমান করা যায়, দেশের মানুষ রাজনীতিবিমুখ হয়ে পড়ছে।

এ রকম মনস্তাত্ত্বিক অবস্থার মধ্য দিয়েই ফ্যাসিবাদের জন্ম ও পুষ্টি লাভ হয়। বাংলাদেশের জন্য এ পরিস্থিতি খুবই উদ্বেগজনক। অতীতে ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য নাগরিকদের ব্যগ্রতা কোনো অংশে কম ছিল না।

তাহলে ইদানীংকালে আমরা যা প্রত্যক্ষ করছি তাতে এ সিদ্ধান্তেই আসতে হয় যে, জনগণ বুঝে ফেলেছে তাদের ভোটের কোনো মূল্য নেই এবং যারা ক্ষমতায় আছে তারা বহাল তবিয়তেই থাকবে।

সম্প্রতি আওয়ামী লীগ প্রধান এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘মুজিববর্ষ’ নিয়ে অতি উৎসাহ লক্ষ করে প্রমাদ গুনেছেন। তিনি বলেছেন, ‘মুজিববর্ষ’ নিয়ে কেউ অতি উৎসাহী হবেন না। এত উৎসাহী থাকলে ’৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে হত্যার পর লাশ সেখানে পড়ে থাকত না।

আমার মা (বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব) এবং পরিবারের সদস্যদের রেড ক্রিসেন্টের শাড়ি দিয়ে দাফন করা লাগত না। এখন আমি মারা গেলে কী হবে, তাও জানি। কাজেই কোনো বাড়াবাড়ি নয়।’

যা হোক, যখন দেখা যায় ভোটাধিকার প্রয়োগের মতো শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতার পালাবদল সম্ভব নয়, তখন শান্তিপূর্ণ উপায়ে পালাবদল অর্জনের সুযোগ হারিয়ে যায়। জাতির জন্য এ পরিস্থিতি একেবারেই কাম্য নয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে বড় ধরনের প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। তবে অতি উৎসাহীদের লাগাম টেনে ধরা সম্ভব হবে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। কারণ আমাদের দেশের বড় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গণতন্ত্র নেই।

ওপর থেকে নানা পর্যায়ের দলীয় কমিটি চাপিয়ে দেয়া হয়। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক আদর্শের কোনো প্রশিক্ষণ হয় না। অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের সদস্যরা দেশের ইতিহাস সম্পর্কেও কোনো খোঁজখবর রাখে না।

এখন দলের বিভিন্ন কমিটিতে থাকা নিয়ে যে রকম দ্বন্দ্ব সংঘাত হয় কিংবা পদ-পদবির বেচাকেনা হয়, সে অবস্থায় সুষ্ঠু রাজনৈতিক চর্চা গড়ে তোলা সম্ভব হয় না। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় গণতান্ত্রিক চর্চা এবং দেশের স্বার্থ।

অতি উৎসাহের বর্ণনা দিতে গিয়ে শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমি খবর পেয়েছি বিভিন্ন এলাকায় গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচির অর্থ দিয়ে পিতার ম্যুরাল তৈরি করা হচ্ছে। এটা যেন করা না হয়।

কেউ যেন অতি উৎসাহী হয়ে যত্রতত্র বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নির্মাণ না করেন।’ দুনিয়ার কোনো সভ্য দেশে যত্রতত্র জাতির পিতা বা জাতীয় নেতাদের মূর্তি বা ম্যুরাল স্থাপন করা হয় না। জাতির পিতার বা জাতীয় নেতার মূর্তি কিংবা ম্যুরাল যত্রতত্র স্থাপন করলে সেগুলো মূল্যহীন হয়ে পড়ে, এমনকি প্রতিপক্ষের হাতে এগুলোর অবমাননা ঘটে।

এমন অতি উৎসাহের রাজনীতি আসলে রাজনীতির মৃত্যুর ঘণ্টাধ্বনি বাজিয়ে দেয়। বাংলাদেশ যে এ রকম একটি বিপদে পড়তে যাচ্ছে সেটা অন্তত প্রধানমন্ত্রী উপলব্ধি করেছেন- এটাই আশার কথা।

তিনি যে সুশাসনের অঙ্গিকার করেছেন তার একটি প্রমাণের জন্য তাকে যত্রতত্র জাতির পিতার ম্যুরাল স্থাপনের প্রয়াসকে কঠোরভাবে দমন করতে হবে। দমন করতে হবে রাষ্ট্রীয় তহবিলের অপব্যবহার।

ড. মাহবুব উল্লাহ : শিক্ষাবিদ ও অর্থনীতিবিদ