দেশের অর্থনীতির আকার এখন ৪১১ বিলিয়ন ডলার

দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) এখন প্রায় ৪১১ বিলিয়ন ডলার। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী ১০ বছর আগের চেয়ে এ আকার বেড়েছে ১৫ দশমিক ৭০ শতাংশ বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

মঙ্গলবার (২৩ নভেম্বর) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ভিত্তিবছর পরিবর্তনের ফলে জিডিপি বেড়ে যাওয়ার তথ্য উপস্থাপন করা হয়।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০২০-২১ অর্থবছরের সাময়িক হিসাব অনুযায়ী দেশের অর্থনীতির আকার ৩৪ লাখ ৮৪ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। মার্কিন ডলারের হিসাবে যা ৪১০ দশমিক ৮০ বিলিয়ন।

রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গণভবন থেকে যুক্ত ছিলেন। বৈঠকে দেশের অর্থনীতি হিসাবের ভিত্তিবছর পরিবর্তনের অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী মান্নান।

ভিত্তিবছর হচ্ছে একটি মানদণ্ড, যেটির প্রেক্ষাপটে একটি দেশের উৎপাদন, সঞ্চয় ও মূলধনের মোট পরিমাণের মতো উন্নয়ন সূচকগুলোর প্রবৃদ্ধি হিসাব করা হয়। বৈঠক পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, অন্যান্য দেশের মতো বিবিএস মোট জিডিপির হিসাব প্রাক্কলনে প্রতি ১০ বছর পরপর ভিত্তিবছর পরিবর্তন করে থাকে।

“আমাদের ২০০৫-০৬ ভিত্তিবছরকে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে পরিবর্তন করায় জিডিপির এ আকার পরিবর্তন হয়েছে।“ তিনি বলেন, “নতুন ভিত্তিবছর অনুযায়ী জিডিপির সব তথ্য হিসাব করার ফলে পণ্য ও সেবার নতুন মূল্য সংযোজন হয়েছে। এবং নতুন অনেক অর্থনৈতিক ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।”

এ সময়ের মধ্যে অর্থনীতির প্রায় সব ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন অনেক বেড়ে যায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, অর্থনীতির নতুন নতুন ক্ষেত্র তৈরি হয়ে জাল বিস্তৃত হওয়ায় অর্থনীতির আকার বেড়ে যায়। ফলে অর্থনীতির মোট আকার, মাথাপিছু আয় ও বিনিয়োগসহ অনেক সূচকের পরিবর্তন হয়েছে।

পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, বিবিএসের এ প্রাক্কলন অনুযায়ী গত অর্থবছরের জাতীয় মাথাপিছু গড় আয় বেড়ে ২ হাজার ৫৫৪ ডলারে উন্নীত হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ২ লাখ ১৬ হাজার ৫২১ টাকা। আগের ভিত্তিবছর অনুযায়ী মাথাপিছু গড় আয় ছিল ২ হাজার ২২৭ ডলার।

তবে ভিত্তিবছর পরিবর্তনের ফলে গত ২০২০-২১ অর্থবছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধি সামান্য কমে ৫ দশমিক ৪৩ শতাংশে নেমে এসেছে। পুরনো ভিত্তিবছর অনুযায়ী গত অর্থবছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন ছিল ৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ।

বিবিএসের পরিসংখ্যান তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, সবশেষ ২০১৯ সালের হিসাব অনুযায়ী দেশের দারিদ্র্য হার ২০ দশমিক ৫ শতাংশ। ‍যদিও বেসরকারি অনেক সংস্থা এ হিসাব মানতে নারাজ। বিবিএসের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী দেশের বর্তমান গড় আয়ুষ্কাল কিছুটা বেড়ে ৭২ বছর ৮ মাস হয়েছে বলে জানান তিনি।

জিডিপির নতুন হিসাবে, কৃষি খাতে মূল্য সংযোজনের ফলে কৃষি উৎপাদনের আকার ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ৪ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা হয়েছে। পুরনো ভিত্তিবছর অনুযায়ী জিডিপিতে কৃষিখাতের অবদান ছিল ৩ লাখ ৮৪ হাজার কোটি টাকা।

এ খাতে শস্য উপখাতে প্রায় ২০টি নতুন ফসল যেমন ড্রাগন ফল, স্ট্রবেরি, ক্যাপসিকাম, লটকন, কচুশাক, শরুফা, মাল্টা ইত্যাদি যোগ হয়েছে। গবাদি পশু ও হাঁস মুরগরি মাংসের উৎপাদনসহ হালনাগাদ তথ্য অন্তর্ভূক্ত হয়েছে।

বিবিএস প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিল্পখাতের আকার সার্বিকভাবে চলতি মূল্যে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের ভিত্তিবছর হিসেবে মূল্য সংযোজন ৩৬ শতাংশ বেড়ে ১১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা হয়েছে।

সেবাখাতে নতুন করে অনেকগুলো খাত যুক্ত হয়ে ১৪ দশমিক ৩ শতাংশ মুল্য সংযোজন হয়ে জিডিপিতে অবদান দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ৯৮ কোটি টাকা। খাতটিতে নতুন হিসেবে উবার, পাঠাও, নতুন বেসরকারি হেলিকপ্টার সংস্থার তথ্য যোগ করা হয়েছে। এছাড়া মোবাইল ব্যাংকিং, এজেন্ট ব্যাংকিং, সরকারের অলাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের হালনাগাদ তথ্য নতুনভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।