বোরহান উদ্দিন ডালিম

আজ আমার সাংবাদিকতায় দুই যুগে পর্দাপণে মতলব উত্তর প্রেসক্লাবের স্থায়ী ভবন নির্মাণ সম্পন্ন

বোরহান উদ্দিন ডালিম :
আলহামদুলিল্লাহ বিগত ২০২০ সালের ১৭ ই মার্চ, বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে মতলব উত্তর প্রেসক্লাবের জন্য স্থায়ী ভবন নির্মাণ করতে ছেংগারচর বাজারে একটি জায়গা নির্ধারণ করে দেন বর্তমান চাঁদপুর -২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এডভোকেট মোঃ নুরুল আমিন রুহুল। শুকরিয়া আদায় করি আল্লাহর দরবারে এই মানুষটির কারণেই মতলব উত্তর উপজেলার সাংবাদিকরা দীর্ঘ ২০ বছর পর স্থায়ী ভবন নির্মাণ করতে জায়গা নির্ধারণ করে কার্যালয় নির্মাণে সক্ষম হয়েছে। স্থানীয় সাংসদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। করোনা মহামারীর কারনে দেরি হওয়ার পরে অবশেষে মতলব উত্তর প্রেসক্লাবের স্থায়ী ভবন উদ্বোধনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে।আমি ও সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম মনির নেতৃত্বে বর্তমান কমিটি অক্লান্ত পরিশ্রম করে মতলব উত্তর প্রেসক্লাবের স্থায়ী ভবন নির্মাণে ভূমিকা পালন করেন। দীর্ঘদিন পর হলেও সাংবাদিকদের তীর্থ স্থান মতলব উত্তর প্রেসক্লাব সদস্যরা একটি পরিপূর্ণ স্থায়ী ভবন পাচ্ছে। মতলব উত্তর প্রেসক্লাবের ভবন নির্মাণ কাজে উপজেলার যে সকল গন্যমান্য ও শুভানুধ্যায়ীরা সহযোগিতার হাত প্রসারিত করেছেন তাদের প্রতি ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
সেদিন ছিল  ১৯৯৮ সালের ২৫ জুন।সবেমাত্র এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে আত্নীয় স্বজন, বন্ধুবান্ধবের বাড়ি ঘুরে বেড়াই। আমি আমার বন্ধু  মুরাদের ( পরবর্তীতে চাচা শশুর) সাথে তার নানার বাড়ি মতলব উত্তর উপজেলার হানিরপাড় বেপারি বাড়িতে ঘুরতে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি গুঁড়িগুঁড়ি  বৃষ্টির মধ্যেই  সন্ধ্যার পর সাংবাদিক মাহবুব আলম লাভলু’র বাড়িতে বর্তমানে দৈনিক বাংলাদেশের আলো পত্রিকার সম্পাদক  ও প্রকাশক      সাংবাদিক নেতা মোঃ মফিজুর রহমান খাঁন বাবু
 ( প্রস্তাবিত ছেংগারচর প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা অর্থাৎ তখনো মতলব উত্তর উপজেলা সৃষ্টি না হওয়ার কারণে উক্ত নামে প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো) , ঢালী কামরুজ্জামান হারুন, প্রসেনজিৎ  চন্দ্র বিমল, রাকিবুল ইসলাম সোহাগ, লুৎফর বারী বারেক, হুমায়ুন কবির সভা অনুষ্ঠিত হয়। বলে রাখা দরকার প্রস্তাবিত ছেংগারচর প্রেসক্লাবের পরবর্তী সভায় সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত হয়ে শামসুজ্জামান ডলার, জয়নাল আবেদীন,তাজুল ইসলাম, মাইনুদ্দিন, নাসির উদ্দিন( আমার আপন বড় ভাই), মিলন মাহমুদ, নাসির উদ্দিন নদী, জাকির হোসেন রিপন, সাইদুর রহমান শিবলু, শহিদুল ইসলাম খোকন,  সহ আরোও সদস্য মতলব উত্তর প্রেসক্লাবে সম্পৃক্ত হন।
স্কুল জীবন থেকেই আমার পড়াশোনার পাশাপাশি লেখালেখির প্রতি প্রবল ইচ্ছে ছিল। তো সেদিন উল্লিখিত সহযোদ্ধা কলমসৈনিকগণ  মতলব উত্তরে সাংবাদিকদের একটি সংগঠন করতে আলোচনায় বসে । শুনে খুশি হলাম,আলোচনা সভায় সাংবাদিকদের নতুন সংগঠনের নাম নির্ধারণ করা হলো ” প্রস্তাবিত ছেংগারচর প্রেসক্লাব”। ঐদিনই সাংবাদিক লাভলু ভাইকে বললাম আমি এ পেশায় আসতে চাই। তখন তিনি আমার আগ্রহ দেখে পরদিন একটি ঠিকানা দিলেন এবং চাঁদপুর শহরে  যেতে বললেন। তখন চাঁদপুর জেলা শহরে মাত্র চারটি সাপ্তাহিক পত্রিকা ছিল তখনো চাঁদপুর শহরে দৈনিক পত্রিকা চালু হয়নি। এরপর ঐ ঠিকানা নিয়ে আমার আব্বার কাছ থেকে মাত্র একশ টাকা ভাড়া নিয়ে ২৭ জুন তখনকার সাপ্তাহিক ( পরে দৈনিক)  চাঁদপুর সংবাদ অফিসে যাই।
অফিসটি  চাঁদপুর শহরের  রেলওয়ে হকার্স মার্কেট এর উল্টো দিকে শাপলা স্টুডিও এর পাশে ছিল। অফিসে গিয়ে প্রথমেই পরিচয় হয় চাঁদপুর সংবাদের তৎকালীন বার্তা সম্পাদক শেখ মহিউদ্দিন রাসেল ভাই ও জিয়াউর রহমান বেলাল ভাই এর সাথে। এরপর থেকে চাঁদপুর গেলে  রাসেল ভাই আমাকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন। তিনি ঐদিন বিকেল বেলা পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক আবদুর রহমান সাহেবের সাথে পরিচয় করে দিলেন। আমাকে সম্পাদক  বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে বিদায় দিলেন। পরদিন ২৮ জুন আমার জন্মদিন আর সেদিনই আমার প্রথম সংবাদ পত্রিকায়  প্রকাশ হয়েছে। শিরোনাম টি ছিলো ” বিষপান করে গৃহিণীর আত্মহত্যা “।
 শুরু হয়ে গেলো আমার পত্রিকায় লেখালেখি। তখনকার দিনে এখনকার মত কম্পিউটার ব্যবহার করে সংবাদ লেখার  সুযোগ ছিল না মফস্বল এলাকায়। আমরা হাতে লিখে পোস্ট অফিসের মাধ্যমে খোলা ডাকের মাধ্যমে পত্রিকা অফিসে সংবাদ পাঠাতাম। অনেক কঠিন ছিলো তখন পত্রিকায় সংবাদ পাঠানো। ইচ্ছে করলেই মফস্বল থেকে নিউজ পাঠানো সম্ভব হতো না। বেশি জরুরি সংবাদ  হলে মতলব শহর বা কালীরবাজারে ফ্যাক্স করতে যেতে হতো। আর যেদিন নিজ নামে সংবাদ প্রকাশ হতো সেদিন অনেক আনন্দ উপভোগ করতাম।
 আমার দীর্ঘ  সাংবাদিকতার  সময়ে মতলব উত্তর উপজেলায় রাজনৈতিক সফরে এসেছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি মরহুম হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুম মিজানুর রহমান চৌধুরী, অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মরহুম মোহাম্মদ হানিফ সহ বিভিন্ন সরকারের  আমলের অনেক  মন্ত্রী  ও  জাতীয় নেতৃবৃন্দ। তাদের সংবাদ কভারেজ করার সৌভাগ্য হয়েছে আমার।
  দীর্ঘ এই ২৩ বছরের সাংবাদিকতায় অনেক চড়াই উৎড়াই পেরিয়ে যেতে হয়েছে।
কখনো রাজনৈতিক চাপে পড়তে হতো নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশ হলে। আবারও অনেক সংবাদ প্রকাশে মানুষের প্রশংসা ও পেতাম।
বলে রাখা দরকার, রাজধানী শহরে বা পত্রিকা অফিসে যারা নিজস্ব প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করে তারা যেকোনো একটা বিষয়ে বিট করে কিন্তু গ্রামে বা মফস্বল এলাকায় সাংবাদিকতা করতে হলে সকল বিষয়ে পারদর্শী হতে হয়।
কারন  রাজনৈতিক, হামলা মামলা, খুনখারাবি, সামাজিক,  শিক্ষামূলক,  খেলাধুলা আবার কখনো বিষয়ভিত্তিক সংবাদ লিখতে হয়। আবার কখনো অফিস থেকে হঠাৎ বললো অমুক বিষয়ে সংবাদ লিখে পাঠান। এজন্যই আমার মতে মফস্বল এলাকায় সাংবাদিকতা করতে সকল দিকে সম্যক জ্ঞান থাকা লাগে। যা অনেক কঠিন হয়ে পড়ে। তাই মফস্বল এলাকায় সাংবাদিকতা করতে গিয়ে অনেক বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।
১৯৯৮সাল থেকে টানা ২৩ বছর সাংবাদিকতা করেছি। আজ দুই যুগে পদার্পণ করলো। আমি বিশ্বাস করি, একটি সংবাদ একজন মানুষের জীবন যেমন বদলে দিতে পারে, তেমনি বদলে দিতে পারে সমাজ-রাষ্ট্রও।
 গণমা্ধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। এই চতুর্থ স্তম্ভ যদি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করে, তাহলে রাষ্ট্রের বাকি তিন স্তম্ভ (আইন সভা, নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগ) সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করবে বলে আমি মনে করি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন থমাস জেফারসন একবার বলেছিলেন, ‘আমাকে যদি বিকল্প দেওয়া হয় যে তুমি কি সংবাদপত্রবিহীন সরকার চাও, না সরকারবিহীন সংবাদপত্র চাও? তখন আমি পরেরটা বেছে নেব।’  অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের মতে, কোনো দেশে স্বাধীন গণমাধ্যম থাকলে সে দেশে দুর্ভিক্ষ হানা দিতে পারে না।
এসব কথার একটাই অর্থ, একটি দেশের স্বার্থেই স্বাধীন সাংবাদিকতা দরকার। আর এজন্য সংবাদপত্র বা টেলিভিশনকে স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা দরকার। আমি বিশ্বাস করি সাংবাদিকরা রাষ্ট্রীয় বা প্রতিষ্ঠানের সব ধরনের চাপ সামলে যদি আসলেই সাংবাদিকতা করতে পারে তাহলে দেশ এগিয়ে যাবে।
  ” সাংবাদিকতা” একটি মহান পেশা । যে পেশা মানুষের মন মানসিকতাকে সমৃদ্ধ করে, সমাজ সভ্যতা কে উন্নত ও পরিপুর্নতায় পৌঁছে দেয়। সাংবাদিকদেরকে রাষ্ট্রের ‘চতুর্থ স্তম্ভ ‘ বলা হয় । কারণ রাষ্ট্রের অন্যান্য স্তম্ভে যখন সমস্যা দেখা দেয় , তখন অনেক সময় সাংবাদিকরা সঠিক নির্দেশনা দিয়ে সমাজ সভ্যতাকে প্রগতি ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। ন্যায় বিচার যখন ব্যাহত হয় সাংবাদিকরা তখন ন্যায় বিচার ও সত্যকে প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে পথ প্রদর্শক এর ভূমিকা পালন করে।
   একজন সাংবাদিক হতে হলে তাকে অবশ্যই একটি সুন্দর মনের মানুষ হতে হবে। সমাজ সভ্যতাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য ‘কমিটমেন্ট’ থাকতে হবে। সত্য ও সুন্দরের সাধনা করতে হবে । সমাজে সাম্য , মৈত্রী , গণতন্ত্র মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একজন কারিগর হিসেবে তাকে কাজ করতে হবে। সাংবাদিক হওয়ার জন্য প্রথমত তাকে কিছু প্রস্তুতিও গ্রহণ করতে হবে।
বলা হয়ে থাকে ‘NEWS’ শব্দটি লিখতে N E W S  চারটি শব্দ থাকে। এর মাধ্যমে NORTH  EAST WEST  &  SOUTH অর্থাৎ চারদিক সম্পর্কে তাকে সম্যক অবহিত ও জ্ঞান সমৃদ্ধ হতে হয় । কোনটি সংবাদ আর কোনটি সংবাদ নয়, সেটা তাকে নির্ধারণ করতে হয়। সংবাদ বিষয়ে প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা এবং একাডেমিক যোগ্যতা থাকতে হয়।
 সাংবাদিকতার কিছু মৌলিক নীতিমালা রয়েছে। বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট কর্তৃক নির্ধারিত সেইসব নীতিমালা সমূহ মেনে চলতে হয়। সাংবাদিকতা কোন হঠাৎ পাওয়া বস্তু নয় । একজন সাংবাদিককে তিলে তিলে সাধনা করে তা অর্জন করতে হয়‌। তবেই সে হতে পারে সত্যিকার অর্থে একজন ‘সাংবাদিক’। তাকে মানুষ শ্রদ্ধা করে, সমাজ তাকে সালাম বা প্রণাম জানায়।
বর্তমানে প্রচলিত অপসাংবাদিকতা এবং সাংবাদিকতার নামে অসভ্যতা দূর করার জন্য প্রথমত সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। পাশাপাশি প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন সহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে ।
 সাংবাদিকতার নীতিমালা কাগজে-কলমে রয়েছে তার পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। পাশাপাশি যারা সিনিয়র এবং সুস্থ সাংবাদিক রয়েছেন তাদের পক্ষ থেকেও উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে । এ ব্যাপারে বিভিন্ন প্রেসক্লাব অথবা সুস্থ সাংবাদিক সংস্থা সমূহ ভূমিকা রাখতে পারে।
সাংবাদিকতার বর্তমান কঠিন এবং করুন পরিস্থিতিতে এইসব ধান্দাবাজি ,অপসাংবাদিকতা, হলুদ সাংবাদিকতা দূর করার বিষয়টি খুবই প্রয়োজন । এটা সম্ভব না হলে আমাদের সমাজ সভ্যতা অগ্রগতির পরিবর্তে আরও পেছনে চলে যাবে। সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সমাজে অন্যায় অবিচার বেড়ে যাবে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এগিয়ে আসা আজকের দিনে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।
যাক এবার আসি নিজের বিভিন্ন পত্রিকায় কাজ প্রসঙ্গে ।
আমি প্রথম শুরু তৎকালীন সাপ্তাহিক চাঁদপুর সংবাদ বর্তমানে দৈনিক পত্রিকা দিয়ে। স্থানীয় পত্রিকা ছাড়া ও  আমি দৈনিক বাংলাবাজার  পত্রিকার মতলব প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করি। তারপর দৈনিক দিনকাল, প্রাইম, দেশজনতা, বর্তমান সহ বিভিন্ন পত্রিকায় কাজ করি।
২০০১সালের শুরুতে চাঁদপুর দর্পণ পত্রিকায় কাজ করি। একই সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে একটানা দুই বছর দৈনিক চাঁদপুর প্রবাহ পত্রিকায় মতলব উত্তর উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করি। এছাড়া দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকায় বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে ও কাজ করি।
২০১২ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ঢাকায় একটি সাপ্তাহিক (পরিচয়) পত্রিকার সম্পাদক    হিসেবে সম্পাদনা  করি। বর্তমানে   জাতীয়  পত্রিকা দৈনিক বাংলাদেশের আলো পত্রিকার সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার দৈনিক স্বদেশ প্রতিদিন পত্রিকার চাঁদপুর জেলা প্রতিনিধি, স্থানীয় দৈনিক শপথ পত্রিকার বিশেষ প্রতিনিধি ও একটি অনলাইন পোর্টাল ( প্রিয়বাংলা নিউজ.  কম)  এর সম্পাদক ও প্রকাশক  হিসেবে আছি।
এবার ফিরে আসি মতলব উত্তর প্রেসক্লাবের বিষয়ে।মতলব উত্তর উপজেলা নামে নতুন উপজেলা সৃষ্টির আগ পযন্ত প্রস্তাবিত  ছেংগারচর প্রেসক্লাব নামে ছেংগারচর  বাজারে ( দর্জি বাজারে)  পৌরসভার তৎকালীন অস্থায়ী কার্যালয়ে আমরা সাংবাদিকরা বসতাম। ঐ সময়ে আমি প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সংগঠনের কাজ করি।
 পরবর্তীতে আমরা মতলব উত্তর উপজেলার গেজেট প্রকাশ হওয়ার পর মতলব উত্তর প্রেসক্লাব হিসেবে নাম পরিবর্তন করে নতুন নামকরণের পরে  সভাপতি মাহবুব আলম লাভলু ও সাধারণ সম্পাদক  শামসুজ্জামান ডলার কে দিয়ে  কমিটি  ঘোষণা করা হয়। ঐ কমিটির  যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরপর তিনটি কমিটির উক্ত পদে ছিলাম।
পরবতীতে ২০০৯ সালে প্রেসক্লাবের কমিটি গঠন নিয়ে মতানৈক্য হলে সকলের সম্মতিতে আমাকে ও আমার সহযোদ্ধা  বন্ধু শহিদুল ইসলাম খোকন কে সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করতে দেওয়া হয়। এরপর দীর্ঘ সাড়ে চার বছর কোনো কমিটি হয়নি।
পূনরায়  ২০১৪ সালে নতুন কমিটি হলে মাহবুব আলম লাভলু সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম খোকনকে নির্বাচিত করা হয়। সর্বশেষ গত ২০১৯ সালের মে মাসে আমাকে ( বোরহান উদ্দিন ডালিম)  সভাপতি ও মনিরুল ইসলাম মনির কে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়েছে।
মতলব উত্তর প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠা কাল থেকে দীর্ঘ সময়ে প্রেসক্লাবের তেমন কোনো উন্নয়ন অগ্রগতি না হলেও আমি ( সভাপতি)   এবং সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম মনিরের নেতৃত্বে প্রেসক্লাবের কমিটি দীর্ঘ প্রচেষ্টার মাধ্যমে প্রেসক্লাবের স্থায়ী কার্যালয় নির্মাণের জন্য এক খন্ড জমির বন্দোবস্ত করতে সমর্থ হই এবং ভবনের কাজ প্রায়ই শেষ হওয়ার পথে।
উল্লেখ্য,  আমার সাংবাদিকতা শুরু যেদিন থেকে শুরু হয়েছে ঠিক অর্থাৎ ২৮ জুন আমার জন্মদিন। কাকতালীয় ভাবে আমার জন্মদিন ও সাংবাদিকতা শুরু জুন মাসের একই তারিখ । ১৯৯৮ সালের ২৮ জুন থেকে আমার সাংবাদিকতা শুরু হয়েছে।
 সংবাদ পত্রের সাথে সম্পৃক্ততার পাশাপাশি আমার পড়াশোনা চালিয়ে যাই। ছেংগারচর কলেজে পড়াকালীন আমার সাংবাদিকতা ভালভাবেই কাটে। আমি  সরকারি তোলারাম কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স ও মাস্টার্স শেষ করি।এরমাঝে আমি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাধীন ছেংগারচর কলজ থেকে বিএসএস ডিগ্রি ও অর্জন  করি।
পরবর্তীতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরেকবার মাস্টার্স ও জাতীয় আইন কলেজ থেকে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করি। এখন এমএলএম করার প্রবল ইচ্ছে রয়েছে।
 দীর্ঘ এই পথচলার মাঝে আজ ২৮ জুন আমার  জন্মদিন ও সাংবাদিকতার ২৩বছর পেরিয়ে দীর্ঘ দুই যুগে পদার্পণ। দীর্ঘ পথচলায় হয়তো মানুষের তেমন উপকার করতে না পারলেও ইচ্ছাকৃত ভাবে কারো ক্ষতি করি নাই। তারপরও নিজের অজান্তে কারো মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে আমি আপনাদের কাছে করজোড়ে ক্ষমাপ্রার্থনা করছি। পাশাপাশি আমি আগামী দিনগুলোতে সহযোদ্ধা কলমসৈনিক বন্ধুগণ  ও আপনাদের সকলের সহযোগিতা চাই।
আল্লাহ হাফেজ।
বোরহান উদ্দিন ডালিম
সভাপতি
মতলব উত্তর প্রেসক্লাব, চাঁদপুর।