মতলব উত্তর থেকে কুড়িগ্রামে ২৬ জন কৃষি শ্রমিক প্রেরণ করা হয়।

মতলব উত্তর থেকে কুড়িগ্রামে ২৬ জন কৃষি শ্রমিক প্রেরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক :

চলতি বোরো ধানাকাটা সংকট মোকাবেলায় কুড়িগ্রামের অলিপুর এলাকায় কৃষি উৎপাদন সচল রাখতে উৎপাদিত ধান কাটা ও মাড়াই কাজের জন্য রোববার বিশেষ ব্যবস্থায় চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা থেকে কৃষি শ্রমিকের একটি দলকে পাঠানো হয়েছে। ধান কাটার জন্য কুড়িগ্রামের অলিপুর উপজেলায় পেশাদার ২৬জন কৃষি শ্রমিককে প্রেরণ করা হয়। মতলব উত্তর থানার ব্যবস্থায় সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার (মতলব সার্কেল) আহসান হাবিব এই কৃষি শ্রমিক পাঠানো কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

এসময় সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার (মতলব সার্কেল) আহসান হাবিব বলেন, প্রতিবছর মতলব উত্তর থেকে কৃষি শ্রমিকরা অলিপুর অঞ্চলে কৃষকের ধান কেটে ঘরে তুলে দেয়। এবার করোনা পরিস্থিতির কারণে চাইলেও অধিকাংশ কৃষি শ্রমিক জেলার বাইরে ধান কাটতে যেতে পারছিল না। এমতাবস্থায় দেশে খাদ্য সংকট তৈরী না হয় এবং কৃষকরা যাতে সময়মত মাঠ থেকে ধান কেটে গোলায় তুলে আনতে পারে সেজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ মোতাবেক সরকার স্বাস্থ্যবিধি মেনে শ্রমিকদের বিশেষ ব্যবস্থায় মতলব উত্তর থেকে ধান কাটার জন্য কুড়িগ্রাম’সহ বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হচ্ছে। এতে কৃষি শ্রমিক ও কৃষক উভয়ই উপকৃত হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় চাঁদপুর পুলিশ সুপারের আদের্শক্রমে বাস্তবায়নে চাঁদপুর পুলিশ সুপার এর সহযোগিতায় দুটি মাইক্রো বাসে এই শ্রমিকদের প্রেরণ করা হয়। এসময় তাদের হাতে পাউরুটি, বিস্কুট, কলা, পানির বোতল ও মাস্ক’সহ একটি প্যাকেট শ্রমিকদের হাতে তুলে দেন সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার (মতলব সার্কেল) আহসান হাবিব ও মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ শাহজাহান কামাল।

মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ শাহজাহান কামাল বলেন, চাঁদপুর পুলিশ সুপার এর নির্দেশক্রমে কৃষির অগ্রগতি ঠিক রাখতে মতলব উত্তর উপজেলা থেকে ২৬ জন কৃষি শ্রমিক কুড়িগ্রামের অলিপুর স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেয়া হয়। শ্রমিকরা যাতে করোনার সংক্রমণ থেকে নিরাপদে থাকে সে জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ওই এলাকার লোকজনের সাথে তাদের কেউ মেলামেশা করতে পারবে না।
সেখানকার প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তার মাধ্যমে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রত্যেক শ্রমিককে আলাদা করে থাকার ও খাবার ব্যবস্থা করা হয়েছে। শ্রমিকরা সেখান থেকে মাঠে গিয়ে ধান কাটার পর আবার নিজ নিজ কক্ষে ফিরে যাবেন।

উল্লেখ্য, এর আগে কৃষি শ্রমিকদের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয় এবং করোনা পরিস্থিতি নিয়ে শ্রমিকদেরকে স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক নির্দেশনা দেয়া হয়।

জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে ভয়াবহ করোনা পরিস্থিতিতে জেলায় জেলায় লকডাউন থাকায় শষ্যভান্ডার খ্যাত কুড়িগ্রাম জেলার অলিপুর অঞ্চলে কৃষি শ্রমিকের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। দেশে খাদ্য সরবরাহ ঠিক রাখতে সময়মত ধান কাটা প্রয়োজন। তদুপরি আসন্ন সম্ভাব্য ঝড়, বৃষ্টি, বন্যা’সহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগে তা ব্যাহত হতে পারে এমন আশংকায় সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বিভিন্ন জেলায় নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।