হেফাজত নেতা মামুনুল হক।

হেফাজত নেতা মামুনুল হক গ্রেপ্তার

হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রবিবার (১৮ এপ্রিল) রাজধানীর মোহাম্মদপুরের রাহমানিয়া মাদরাসা থেকে দুপরে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

একটু পরে তেজগাঁওয়ের ডিসি হারুনুর রশিদ এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানাবেন বলে জানা গেছে।

এর আগে, পুলিশের ওপর হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মামুনুল হককে প্রধান করে ৮৩ জনের নাম উল্লেখ এবং ৫০০ থেকে ৬০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) রাতে সোনারগাঁ থানায় পুলিশ বাদি হয়ে দুটি ও একজন সাংবাদিক বাদি হয়ে একটি মামলা করেন।

সোনারগাঁও থানার ওসি (তদন্ত) মো. তবিদুর রহমান জানান, পুলিশের উপর হামলা ও পুলিশের গাড়ি, রয়েল রিসোর্ট, আওয়ামী লীগের কার্যালয়, যুবলীগ, ছাত্রলীগ নেতার কর্মীর বাড়ি ঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুরের ঘটনায় তিনটি মামলা করা হয়েছে। মামুনুল হককে প্রধান আসামি করে ৪১ জনের নাম উল্লেখ এবং ২৫০-৩০০জনকে অজ্ঞাত আসামী করে মামলা করা হয়। অন্যদিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় এসআই আরিফ হাওলাদার বাদি হয়ে একটি মামলা করেন এবং এস টেলিভিশনের হাবিবুর রহমানের উপর হামলার ঘটনায় তিনি নিজেই বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন।

রবিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুরের রাহমানিয়া মাদরাসা থেকে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। ছবি: ভোরের কাগজ

এদিকে, স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর দিনে ঢাকায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ এলাকায় সংঘাত-নাশকতার ঘটনায় হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকসহ ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে আরও দুই থেকে ৩ হাজার অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করেছেন খন্দকার আরিফুজ্জামান নামে এক ব্যবসায়ী। রাজধানীর পল্টন থানায় মামলাটি দায়ের করা এ মামলার এজাহারে এক নম্বর ও হুকুমের আসামি করা হয়েছে মামুনুল হককে। মামলায় মারধর, ভাঙচুর, গাড়ি পোড়ানোর অভিযোগ আনা হয়েছে।

বেশ কিছুদিন ধরেই নান কর্মকাণ্ডের কারণে আলোচনায় রয়েছেন হেফাজত ইসলামের এই নেতা। এর আগে সুনামগঞ্জের শাল্লায় একটি ওয়াজ মাহফিলে সরকারকে সমালোচনা বক্তব্য রাখেন তিনি। ওই সময়ে তার সমালোচনা করে এক যুবক ফেসবুকে পোস্ট দিলে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর পর ওই এলাকায় তার সমর্থকরা সংখ্যালঘু গ্রাম ঘেরাও করে বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটায়।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশে আগমনের সময়েও তার বিরোধীতা করে মাঠে সক্রিয় ছিলেন মামুনুল হক। তার নেতৃত্বে আন্দোলনে বায়তুল মোকাররমে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় হেফাজত।

একই সময়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তাণ্ডব চালিয়ে পুড়িয়ে দেয় সরকারি স্থাপনা।

সর্বশেষে নারায়াণগঞ্জের সোনারগাঁয় কথিত দ্বিতীয় স্ত্রীসহ আটক হন তিনি। সেখানেও তার সমর্থকরা জড়ো হয়ে পুলিশেও ওপর হামলা ও দোকানপাটে ভাঙচুর চালিয়ে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। এর পর মামলা হয় তার নামে।