করোনার সংক্রমণ নিয়ে নতুন তথ্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার

চীনের উহানে ২০১৯ সালে করেরানাভাইরাসের যে প্রকোপ ধারণা করা হয়েছিল তার চেয়েও বেশি এই ভাইরাসটি ছড়িয়ে ছিল। এ সময়ে প্রদেশটিতে জরুরিভাবে কয়েক লাখ রক্তের নমুনা পরীক্ষার জন্য আবেদন করা হলে চীন তা এখনও অনুমতি দেয়নি।

করোনাভাইরাসের উৎস নিয়ে কাজ করা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লুএইচও) তদন্তকারীরা সম্প্রতি এ তথ্য জানিয়েছে।

ডব্লিউএইচও মিশনের প্রধান তদন্তকারী পিটার বেন এম্বারেক এক সাক্ষাত্কারে বলেছিলেন, ছড়িয়ে যাওয়া এ ভাইরাসটির প্রথমবারের মতো এক ডজনেরও বেশি স্ট্রেনের খোঁজ মিলেছিলো ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে। তদন্তকারী দলটি প্রথম চীনের প্রথম রোগীর সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি ডিসেম্বরেই সংক্রামিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন। চল্লিশোর্ধ্ব বয়সী এই ব্যক্তি ৮ ডিসেম্বর আক্রান্ত হয়েছিলেন। এর আগে কাছাকাছি সময়ে তাঁর বাইরে ভ্রমণ করার ইতিহাস ছিল না।

ডাব্লুএইচও’র দীর্ঘ প্রতীক্ষিত চীন সফরে সংগৃহীত আরও বিশদ তথ্যের উত্থানের ফলে অন্যান্য বিজ্ঞানীরা এই রোগের উত্স সম্পর্কে গবেষণা করে যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন তা ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে সরকারী ঘোষণার অনেক আগে থেকেই চীনে ছড়িয়ে পড়েছিল।

উহান থেকে সদ্য সুইজারল্যান্ডে ফিরে আসা এম্বারেক বলেছেন, ডিসেম্বর মাসে উহানে ভাইরাসটি ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছিল, এটি একটি নতুন অনুসন্ধান।

জানা যায়, বেইজিং প্রথমে ১৭ সদস্যের প্রতিনিধিদলকে উহানে যেতে অস্বীকৃতি জানায়। কয়েক মাস ধরে সমঝোতা-প্রচেষ্টার পর উহানে সংস্থাটির প্রতিনিধিদের তদন্তকাজে ঢুকতে দিতে রাজি হয় বেইজিং।

উহানে বন্য প্রাণীর কোনো বাজার থেকে করোনাভাইরাসের সূত্রপাত বলে ধারণা করা হয়। পরে সেখান থেকে ভাইরাসটি প্রাণী থেকে মানবদেহে প্রবেশ করে। তবে বিশেষজ্ঞরা এখন মনে করছেন, উহান থেকে ভাইরাসটির সূত্রপাত না হয়ে সেখানে এটির শুধু বিস্তার ঘটে থাকতে পারে। গবেষকেরা ইঙ্গিত দিয়েছেন, মানুষকে সংক্রমিত করতে সক্ষম এ ভাইরাস দশকের পর দশক ধরে অশনাক্তকৃত অবস্থায় থেকে বাদুড়ের মাধ্যমে ছড়াতে পারে।