জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে উচ্চ মাধ্যমিকের ফল!

মঙ্গলবার শিক্ষামন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন

আগামী জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ নাগাদ চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হতে পারে। যদিও ডিসেম্বরের চলতি সপ্তাহেই ফল প্রকাশ করার কথা ছিল, কিন্তু জটিলতার কারণে তা এক মাস পিছিয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের কয়েকটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন গতকাল সন্ধ্যায় ভোরের কাগজকে বলেন, উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল কবে প্রকাশ করা হবে তা শিগগিরই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সাংবাদিকদের জানাবেন শিক্ষামন্ত্রী। কিন্তু শিক্ষামন্ত্রীই তো বলেছিলেন, ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে ফল প্রকাশ করা হবে, এখন আবার মন্ত্রীর কাছ থেকে জানতে হবে কেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি এখন কিছুই বলছি না। সংবাদ সম্মেলনে সব প্রশ্নের উত্তর পাবেন।

এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, আগামী মঙ্গলবার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুরে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপুমনি সংবাদ সম্মেলনে আসছেন। এ সময় কেন ডিসেম্বরে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি, কেনই-বা ফল প্রকাশ করতে আগামী বছরের জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগবে- তার ব্যাখা দেবেন ডা. দীপু মনি। করোনায় আক্রান্ত না হলে মন্ত্রী আরো আগেই তথ্যগুলো সাংবাদিকদের জানাতেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করার জন্য যে নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে তা এখনো অনুমোদনই হয়নি। ফলে চলতি মাসে এই পরীক্ষার ফল প্রকাশের সম্ভাবনা নেই। জানতে চাইলে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম আমিরুল ইসলাম বলেন, নীতিমালা অনুমোদন হলে পরবর্তী এক সপ্তাহের মধ্যে ফল তৈরির কাজ শেষ করা সম্ভব হবে। আমাদের সব প্রস্তুতি রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, পরীক্ষা না নিয়ে অটোপাস দিয়ে ফল প্রকাশের পর আইনি জটিলতা এড়াতে শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যমান আইনে সংশোধন করতে হবে। এরপর এই সংশোধনীর বিষয়ে একটি অধ্যাদেশ জারি করতে হবে। অধ্যাদেশ জারির পর শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ করা যাবে। সংসদ অধিবেশন না থাকায় অধ্যাদেশ জারির বিকল্প নেই। এ ছাড়াও ফল প্রকাশের জন্য এখনো গাইডলাইন হাতে পায়নি শিক্ষাবোর্ডগুলো।

বোর্ডসূত্র জানিয়েছে, শিক্ষাবোর্ড আইনে বলা আছে-পরীক্ষা নিয়ে বোর্ড ফল প্রকাশ করবে। কিন্তু করোনার কারণে এবার পরীক্ষা হচ্ছে না। তাই, ফল প্রকাশের পর আইনি জটিলতার মুখে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভবিষ্যতে জটিলতা এড়াতেই আইন সংশোধন করে অধ্যাদেশ জারি করা হবে। গত বৃহস্পতিবার সারাদিন বোর্ডের কর্তারা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এ নিয়ে সভা করেছেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ভোরের কাগজকে বলেছেন, শিক্ষাবোর্ড আইন সংশোধনের জন্য জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে মন্ত্রিসভায় উত্থাপন করা হতে পারে। আইন সংশোধন হলে অধ্যাদেশ জারি হবে। এরপর সবকিছু প্রস্তুত করে শিক্ষাবোর্ডে পাঠাতে মধ্য জানুয়ারি পর্যন্ত সময় লাগবে। বোর্ডে ফল প্রস্তুত করতে কমপক্ষে ১০ দিন সময় লাগবে। তারপর ফল প্রকাশ করা হবে।

প্রসঙ্গত, গত ৭ অক্টোবর শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, করোনা ভাইরাস মহামারির মধ্যে পঞ্চম ও অষ্টমের সমাপনীর মতো এবার উচ্চ মাধ্যমিকের পরীক্ষা নেয়া হবে না। অষ্টমের সমাপনী ও মাধ্যমিকের ফলের গড় করে এবারের উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের ফল নির্ধারণ করা হবে। গত ১ এপ্রিল থেকে উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষা শুরুর কথা থাকলেও করোনা সংক্রমণের কারণে তা স্থগিত করা হয়। পাশাপাশি অটোপাসের ফল তৈরিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবের সমন্বয়ে আট সদস্যের গ্রেড মূল্যায়ন টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করা হয়। চলতি মাসের শুরুতে কমিটি ফল তৈরিতে জিপিএ গ্রেড নির্ণয়ের বেশ কয়েকটি প্রস্তাবের সমন্বয়ে একটি গাইডলাইন তৈরি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠায়।