মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের সবজির অপার সম্ভাবনা

করোনার ধাক্কা কাটিয়ে বিদেশের বাজারে আবার শুরু হয়েছে চট্টগ্রামের সবজি রপ্তানি। সুইডেন, মালয়েশিয়া, কানাডাসহ ইউরোপ আমেরিকার বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশ থেকে সবজি রপ্তানি হয়। তবে মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে রয়েছে চট্টগ্রামের সবজির আলাদা চাহিদা। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে চট্টগ্রাম থেকে ৫০ রকমের বেশি সবজি রপ্তানি হয়ে থাকে। গত সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে ৭০০ টনেরও বেশি সবজি রপ্তানি হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে। এমন তথ্য জানিয়েছে চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দর, উদ্ভিদ সংঘনিরোধ কেন্দ্র। মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে চট্টগ্রামের সবজি রপ্তানি বাড়াতে পারলে বৈদেশিক মুদ্রার আয় যেমন বাড়বে তেমনি সরকারের রাজস্বও বাড়বে।
উদ্ভিদ সংঘনিরোধ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, করোনার প্রথম ঢেউয়ের পর সেপ্টেম্বরে চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দর দিয়ে ফ্লাইট চালু হয়। গত ৭ সেপ্টেম্বর থেকে ফ্লাইটে চট্টগ্রামের সবজি রপ্তানিও চালু হয়। গত সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে মোট ৭০৪ টন সবজি রপ্তানি হয়েছে। এর মধ্যে সেপ্টেম্বরে ২৫৩ টন, অক্টোবরে ২৭৪ টন, নভেম্বরে ১৭৭ টন রপ্তানি হয়েছে। চট্টগ্রাম বিমানবন্দর দিয়ে রপ্তানিকৃত এসব সবজি সৌদি আরব, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, মাস্কাট, দুবাই, আল জাবেরসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রাজ্যে রপ্তানি হয়। এর মধ্যে মিষ্টি কুমড়া, লাউ, আলু, বেগুন, কচু, কচুর লতি, তিতকরলা, উস্তে, কাঁকরোল, পটোল, ঝিঙে, শসা, বরবটি, শিম, লেবু, জলপাই, সাতকরা, বাঁশের কোড়ল, কলার মোচা, গাজর, ফুলকপি, শালগম, ব্রোকলি, চায়না বাঁধাকপি, বিট, সাতকরা উল্লেখযোগ্য।
চট্টগ্রাম বিমানবন্দর দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২০৪৫ টন, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ২০৯৬ টন, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ২১১৫ টন সবজি রপ্তানি হয়। এ ব্যাপারে উদ্ভিদ সংঘনিরোধ কেন্দ্রের উপপরিচালক শৈবাল কান্তি নন্দী ভোরের কাগজকে বলেন, করোনার জন্য কার্গো রপ্তানি বন্ধ ছিল। গত সেপ্টেম্বর থেকে ফ্লাইট চালুর পর সবজিরও রপ্তানি শুরু হয়েছে। চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে ফ্লাই দুবাই, এয়ার এরাবিয়া ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্যাসেঞ্জার ফ্লাইটে সবজি মিডলইস্টে রপ্তানি হয়।
চট্টগ্রাম কাস্টম উপকমিশনার রোকসানা আকতার বলেন, এটি নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য সুখবর। সবজি রপ্তানি খাতেও আমাদের উল্লেখযোগ্য আয় হচ্ছে। সরকার রপ্তানিতে নানামুখী উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছে। সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে সবজি রপ্তানিতে সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে ২ লাখ ৩২ হাজার ২৫০ টাকা। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে উৎপাদন বাড়াতে হবে। কৃষকদের নানামুখী সহায়তা দিয়ে উৎসাহিত করতে হবে। বিষয়টি নিয়ে সবজি রপ্তানিকারক প্রতিনিধি মামুনুর রশিদ জানান, করোনার পর আমরা গত অক্টোবর থেকে সবজির চালান পাঠানো শুরু করেছি। এখন শীতকালীন সবজি বেশি যাচ্ছে।